ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে মার্কিন বিনিয়োগ চাইলেন শিল্পমন্ত্রী

বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের দেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্বে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।বুধবার (১২ আগস্ট) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন শিল্পমন্ত্রী।বৈঠকে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে মার্কিন কোম্পানিগুলো যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ট্রেড ও এক্সপোর্ট পলিসি, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং ই-কমার্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে বাংলাদেশকে কোন কোন খাতে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, সেটিও আলোচনায় উঠে আসে।[BANGVIEWS-POST:3638]শিল্পমন্ত্রী জানান, জুট, লেদার, শিপ বিল্ডিং ও শিপ রিসাইক্লিং খাতের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে। এসব খাতকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি খাতে পরিণত করার পরিকল্পনার বিস্তারিত উদ্যোগ আগামী মাসে প্রকাশ করা হবে।এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়েও মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে শিগগিরই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজ করতে জ্বালানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, ব্যবসাবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং ব্যাংকিং খাতে প্রয়োজনীয় উদারীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান শিল্পমন্ত্রী। এর ফলে আইটি প্রতিষ্ঠান ও ফ্রিল্যান্সারদের ডিজিটাল সেবা এবং পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহারের সুযোগ আরও সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।ট্রেড লাইসেন্সের জটিলতা কমাতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিল্পমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে দেশের যেকোনো স্থান থেকে ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন করা যাবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি অনলাইনে জমা দেওয়ার পর একই পোর্টাল থেকে লাইসেন্স ডাউনলোড করা সম্ভব হবে। এতে সরকারি দপ্তরে গিয়ে সময় নষ্ট করার প্রয়োজন কমবে।তিনি আরও জানান, দেশের সব এলাকার ট্রেড লাইসেন্স একটি কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এ উদ্যোগের বাস্তবায়ন শুরু হবে।[BANGVIEWS-POST:3637]বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় কোনো বাধা রয়েছে কি না জানতে চাইলে শিল্পমন্ত্রী বলেন, মূল সমস্যা বাধার চেয়ে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া আরও সহজ করার সঙ্গে সম্পর্কিত। বিভিন্ন লাইসেন্স, পারমিট ও ক্লিয়ারেন্সের ক্ষেত্রে থাকা অপ্রয়োজনীয় ওভারল্যাপিং চিহ্নিত করে তা দূর করা হবে।তিনি বলেন, ব্যবসা সহজ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আগে অনেক পিছিয়ে ছিল। এখন অনুমোদন ও সরকারি সেবার যত বেশি সম্ভব অংশ ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সরাসরি যেতে না হয়। বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ আরও সহজ ও কার্যকর করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।বৈঠকে ৩৩ সদস্যের ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন কাউন্সিলের অ্যাডভাইজার নিশা বিসওয়াল। এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসেরসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে মার্কিন বিনিয়োগ চাইলেন শিল্পমন্ত্রী