চলতি বছরের আগস্টের শেষ দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিট ২০২৭ সালের শুরুতে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৮ সালের শুরুতে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে।[BANGVIEWS-POST:1886]সম্প্রতি কেন্দ্রটির নিরাপত্তা, পরিচালনা সক্ষমতা ও ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসব তথ্য জানান।তিনি বলেন, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র কোনো একক প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তে পরিচালিত হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ), রাশিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থা রোস্তেখনাদজর এবং বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়রা) তদারকিতে প্রকল্পটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি জার্মানিভিত্তিক আন্তর্জাতিক কারিগরি মূল্যায়ন প্রতিষ্ঠান ভিও সেফটি নিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন পরীক্ষা করছে।পরিচালন সক্ষমতা নিয়ে তিনি বলেন, গত এক দশকে দেশের শতাধিক প্রকৌশলী ও অপারেটরকে রাশিয়ায় আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। রুশ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এনপিসিবিএল বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রস্তুত।[BANGVIEWS-POST:1884]ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি বা স্পেন্ট ফুয়েল নিয়ে কোনো জটিলতা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে ‘স্পেন্ট ফুয়েল টেক ব্যাক’ চুক্তি রয়েছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী রিঅ্যাক্টর থেকে বের করার পর ব্যবহৃত জ্বালানি সরাসরি অন্য দেশে পাঠানো হয় না। প্রথমে এটি রূপপুরের নিজস্ব স্পেন্ট ফুয়েল পুলে নির্দিষ্ট সময় সংরক্ষণ ও শীতল করা হবে। এরপর চুক্তি অনুযায়ী তা রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার তৈরি ভিভিইআর-১২০০ মডেলের দুটি চুল্লি স্থাপন করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।