যুক্তরাজ্যের শীর্ষ করদাতাদের তালিকায় রাজা চার্লস
দীর্ঘ প্রায় এক দশকের সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পরও ঐতিহাসিক বাকিংহাম প্যালেসে স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন না ব্রিটেনের রাজা চার্লস। রাজপরিবারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনি লন্ডনের ক্ল্যারেন্স হাউসকেই নিজের প্রধান বাসভবন হিসেবে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে প্রায় দুই শতাব্দী ধরে ব্রিটিশ রাজাদের প্রধান আবাস হিসেবে ব্যবহৃত বাকিংহাম প্যালেসের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।রাজপরিবারের কর্মকর্তারা একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো রাজা চার্লসের কর পরিশোধের বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করেছেন। প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিনি ১ কোটি ২৯ লাখ পাউন্ড কর দিয়েছেন, যা তাকে যুক্তরাজ্যের শীর্ষ করদাতাদের তালিকায় স্থান দিয়েছে।[BANGVIEWS-POST:654]২০২২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর রাজপরিবারের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠে। এরপর থেকেই রাজপরিবার আর্থিক তথ্য প্রকাশে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়।বাকিংহাম প্যালেসে চলমান সংস্কার প্রকল্পের আওতায় ভবনের পুরোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ, পাইপলাইন ও হিটিং ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্প আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।রাজপরিবারের কোষাধ্যক্ষ জেমস চ্যালমার্স জানিয়েছেন, রাজা চার্লস সেখানে না থাকলেও বাকিংহাম প্যালেস বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের অভ্যর্থনা, রাজকীয় অনুষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের প্রধান কেন্দ্র হিসেবেই ব্যবহৃত হবে। লন্ডনে অবস্থানকালে রাজা ভবনটিকে আনুষ্ঠানিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করবেন এবং রাজকীয় পতাকাও আগের মতোই উড়বে।কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পর থেকে রাজা চার্লস কিংবা প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ কেউই বাকিংহাম প্যালেসে রাতযাপন করেননি। তবে রাজার ব্যক্তিগত কক্ষগুলো সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি প্রতি বছর প্রায় সাত লাখ দর্শনার্থীর জন্য উন্মুক্ত থাকা এই ঐতিহাসিক প্রাসাদে জনসাধারণের প্রবেশাধিকার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।আইন অনুযায়ী ব্রিটিশ রাজাকে আয়কর, মূলধনী মুনাফা কর বা উত্তরাধিকার কর দিতে হয় না। তবে ১৯৯৩ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ স্বেচ্ছায় কর প্রদান শুরু করার পর থেকে সেই প্রথা অনুসরণ করছেন রাজা চার্লসও। এবারই প্রথম তাঁর কর পরিশোধের নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ করা হলো।রাজপরিবারের তথ্যমতে, 'ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার' নামে পরিচিত রাজকীয় সম্পত্তি থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজা চার্লসের ব্যক্তিগত আয় হয়েছে ২ কোটি ৫২ লাখ পাউন্ড। এছাড়া অন্যান্য সম্পদ ও বিনিয়োগ থেকেও তাঁর আয় রয়েছে।জেমস চ্যালমার্স জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজা চার্লস ১ কোটি ১৭ লাখ পাউন্ড কর পরিশোধ করেন। ২০২২ সালে সিংহাসনে আরোহনের পর থেকে তিনি মোট ৩ কোটি পাউন্ডের বেশি কর দিয়েছেন।রাজপ্রাসাদের রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এবং সরকারি দায়িত্ব পালনের ব্যয় নির্বাহে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে রাজপরিবার বার্ষিক 'সভেরেন গ্রান্ট' পেয়ে থাকে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এর পরিমাণ হবে ১৩ কোটি ৭৯ লাখ পাউন্ড। তবে রাজা চার্লসের ইচ্ছায় ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে এই অনুদান কমিয়ে ১০ কোটি পাউন্ড নির্ধারণ করা হবে এবং তা কয়েক বছর অপরিবর্তিত থাকবে।[BANGVIEWS-POST:651]এদিকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭৭ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড কর দিয়েছেন। এছাড়া একটি বন্ধ কারাগার থেকে পাওয়া ১৫ লাখ পাউন্ড ভাড়া স্থানীয় জনগণের কল্যাণে ব্যয় করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।সম্প্রতি সেনাবাহিনী, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ভাড়া নিয়ে রাজপরিবার লাভবান হচ্ছে—এমন সমালোচনার বিষয়ে রাজা চার্লস ও প্রিন্স উইলিয়াম তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।সূত্র : রয়টার্স