ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এনবিআর ভেঙে দুটি নতুন প্রতিষ্ঠান, আসছে রাজস্ব ব্যবস্থায় বড় সংস্কার

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্গঠন করে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন কাঠামোয় একটি প্রতিষ্ঠান রাজস্ব নীতি প্রণয়নের দায়িত্ব পালন করবে, অন্যটি পরিচালনা করবে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও আদায় কার্যক্রম।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থায় রাজস্ব নীতি বিভাগ সরকারের একটি কৌশলগত গবেষণা ও পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। অর্থনীতিবিদ, গবেষক, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি এবং শিল্প-বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে এই বিভাগ একটি আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক কর কাঠামো তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।[BANGVIEWS-POST:3937]অন্যদিকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ মাঠপর্যায়ে কর আদায়, আইন প্রয়োগ এবং রাজস্ব প্রশাসনের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এই বিভাগকে কার্যকর বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি।অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি বড় হলেও সে অনুযায়ী রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা বাড়েনি। এই ঘাটতি পূরণে শুধু বিদ্যমান করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে করের আওতা বাড়ানো, কর ফাঁকি বন্ধ, কর অব্যাহতি পুনর্বিবেচনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৬ শতাংশ বেশি। এই লক্ষ্য উচ্চাভিলাষী হলেও দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।আমির খসরু বলেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে যেতে চায়। দেশের উন্নয়নের অর্থায়নে নিজস্ব রাজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।[BANGVIEWS-POST:3936]রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকায়নে অটোমেশনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি রাজস্ব প্রশাসন তৈরি করা যেখানে করদাতাদের অপ্রয়োজনে কর্মকর্তাদের কাছে যেতে হবে না।তিনি আরও বলেন, ই-ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট, আসিকুডা ওয়ার্ল্ড, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো এবং আধুনিক স্ক্যানিং প্রযুক্তির মতো উদ্যোগের মাধ্যমে একটি ‘ফেসলেস’ ও ‘কন্টাক্ট-ফ্রি’ রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে।বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনও বিশ্বের তুলনায় কম উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের গড়ের তুলনায় এই হার অনেক নিচে। তিনি বলেন, রাজস্ব সম্মেলন শুধু আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

এনবিআর ভেঙে দুটি নতুন প্রতিষ্ঠান, আসছে রাজস্ব ব্যবস্থায় বড় সংস্কার