গেজেট না হওয়ায় নতুন পে-স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তা
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল নিয়ে এখনো কাটেনি অনিশ্চয়তা। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন কাঠামো কার্যকরের আলোচনা থাকলেও এ সংক্রান্ত গেজেট এখনো প্রকাশ না হওয়ায় বেতন বৃদ্ধি, ভাতা, পে-ফিক্সেশন এবং অবসর সুবিধা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:1184]অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। মূল বেতনের পূর্ণ বৃদ্ধি জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে, আর বাড়তি ভাতাগুলো পরবর্তী অর্থবছর থেকে যুক্ত হতে পারে। গেজেট প্রকাশের পর বিষয়টি চূড়ান্তভাবে পরিষ্কার হবে। দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের কথা রয়েছে। এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সুপারিশকৃত সংশোধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ এবং পরবর্তী অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ পাওয়ার কথা ছিল। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় আলোচনায় এসেছে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি। ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সময় অনেক কাজ হাতে করা হলেও এখন সরকারি বেতন-ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও জিপিএফসহ বেশির ভাগ আর্থিক কার্যক্রম ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার ও আইবাস ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে একাধিক ধাপে মূল বেতন কার্যকর হলে সফটওয়্যার সংশোধন, বারবার পে-ফিক্সেশন এবং প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের দাবি, প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা উচিত। এরপর বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য ভাতা ধাপে ধাপে কার্যকর করা যেতে পারে। এতে সফটওয়্যার জটিলতা কমবে এবং অবসরের কাছাকাছি থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন ও গ্র্যাচুইটি হিসাবেও অনিশ্চয়তা কমবে।[BANGVIEWS-POST:1182]অবসরের দ্বারপ্রান্তে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। কারণ পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও ছুটির নগদায়নসহ বেশির ভাগ সুবিধা শেষ প্রাপ্ত বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। ফলে নতুন পে-স্কেলের কোন অংশ কবে কার্যকর হবে, তা তাদের ভবিষ্যৎ আর্থিক সুবিধার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সমন্বয় প্রয়োজনীয় হলেও এর প্রভাব মূল্যস্ফীতি ও বাজেট ব্যবস্থাপনায় পড়তে পারে। তাই বেতন বৃদ্ধি বাস্তবায়নের পাশাপাশি বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখাও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।