ঢাকা    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করবে না ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দূতরা কাতারে পৌঁছালেও তাঁদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসবে না ইরান। এতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্থায়ী শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ দোহায় পৌঁছেছেন। হোয়াইট হাউস এ সফরকে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার অংশ হিসেবে দেখালেও ইরান ও মধ্যস্থতাকারী কাতার জানিয়েছে, আপাতত সরাসরি মার্কিন-ইরান বৈঠকের কোনো সূচি নেই।  [BANGVIEWS-POST:1001]ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আগামী কয়েক দিনে আমেরিকান পক্ষের সঙ্গে কোনো পর্যায়ের বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। তবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে নিম্নপর্যায়ের কারিগরি আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে।  ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, কঠিন বিষয়গুলোতে যাওয়ার আগে দুই সপ্তাহ আগে সই হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো স্পষ্ট করতে হবে। এরপরই পারমাণবিক কর্মসূচিতে সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতার মতো জটিল ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে।  প্রাথমিক কাঠামো অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালীতে চাপ কমানোর বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে স্থায়ী শান্তিচুক্তির জন্য ৬০ দিনের আলোচনার পথও রাখা হয়েছে। তবে কাতার-ভিত্তিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ঘিরে অনিশ্চয়তা এই পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলেছে।হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের অবস্থানও আলোচনাকে কঠিন করে তুলছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে যেত। বর্তমানে সেখানে জাহাজ চলাচল আংশিকভাবে পুনরায় শুরু হয়েছে।  ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর সার্বভৌমত্ব ইরান ও ওমানের হাতে, আর সেখানে চলাচলের ব্যবস্থা ইরান নির্ধারণ করবে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হলে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে টোল আরোপ করা হতে পারে।  অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরানকে টোল আদায় করতে দেওয়া হবে না। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলপ্রবাহ যুদ্ধের আগের পর্যায়ে ফিরে এসেছে, কিছু দিনে তা আগের চেয়েও বেশি হয়েছে।রয়টার্স বলছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার অনিশ্চয়তার মধ্যেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা সতর্ক করেছে, জ্বালানি বাজারে স্বস্তি এলেও খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতিগুলো চাপের মুখে থাকতে পারে।  [BANGVIEWS-POST:995]এই অন্তর্বর্তী চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাত বন্ধের বিষয়টিও রয়েছে। তবে লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি আলাদা মার্কিন-মধ্যস্থতাকৃত কাঠামো চুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি বৈঠক না হওয়া এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে দুই পক্ষের বিপরীত অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান স্থায়ী চুক্তির পথ আরও কঠিন করে তুলতে পারে। সূত্র: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করবে না ইরান