তিন মাসের জন্য নীতি সুদহার ৯.৫০ শতাংশই রাখল বাংলাদেশ ব্যাংক
তিন মাসের জন্য নীতি সুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য ঘোষিত নতুন মুদ্রানীতিতে আগের নির্ধারিত অধিকাংশ লক্ষ্যমাত্রাও বহাল রাখা হয়েছে।বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান নতুন মুদ্রানীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমান নীতি সুদহার প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতির অবস্থান এখনো কিছুটা কঠোর বা সংকোচনমূলক।এর আগে জুলাইয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল। চলতি সিদ্ধান্তে সেই হারই বহাল রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটেও বর্তমানে নীতি সুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ দেখানো হচ্ছে।নতুন মুদ্রানীতিতে এসএলএফের সুদহার ১১ শতাংশ এবং এসডিএফের হার ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৮ শতাংশ অপরিবর্তিত রয়েছে। অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা ১০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা ২১ দশমিক ৮ শতাংশ রাখা হয়েছে।হাবিবুর রহমান বলেন, নীতি সুদহার মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে বেশি থাকায় প্রকৃত সুদের হার ইতিবাচক রয়েছে। মূল্যস্ফীতি কমার প্রবণতা থাকলেও সামনে এ প্রবণতা কতটা বজায় থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে মানুষের ব্যয়ের সক্ষমতা বাড়তে পারে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক জ্বালানি মূল্য পরিবর্তনসহ অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ও মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি নির্ধারণী কমিটিও এসব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এবারের মুদ্রানীতি ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমবারের মতো তিন মাস মেয়াদি মুদ্রানীতি কাঠামোতে গেল। এর আগে সাধারণত ছয় মাসের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হতো। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে মুদ্রানীতি পর্যালোচনার চর্চা রয়েছে।তবে বাংলাদেশে এখনই আরও ঘন ঘন মুদ্রানীতি পর্যালোচনা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান ডেপুটি গভর্নর। তার মতে, আমদানি-রপ্তানির তথ্য নিয়মিত পাওয়া গেলেও অর্থনীতির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সূচকের তথ্য একই গতিতে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে শিল্প উৎপাদনসহ কিছু পরিসংখ্যান প্রকাশে সময় লাগে।এবারের মুদ্রানীতি ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর উপস্থিত ছিলেন না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সরকারি কাজে ব্যস্ত থাকায় গভর্নর সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে পারেননি।