যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত
প্রধানমন্ত্রীর পর এবার ইউক্রেনের জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরোভকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যুদ্ধ চলাকালে সরকারের বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় তাঁকে পদ থেকে সরানো হলো।ফেদোরোভের অপসারণের সিদ্ধান্ত ইউক্রেনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার কিয়েভে প্রেসিডেন্টের দপ্তরের কাছে এক হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভ করেন। অনেকেই সরকারের কাছে এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দাবি করেন।[BANGVIEWS-POST:1919]সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের বিদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফেদোরোভ। তিনি বলেন, দেশের সেবা করতে পারা তাঁর জন্য বড় সম্মানের। দায়িত্ব পালনকালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, সামরিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং অস্ত্র কেনাকাটায় স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।৩৫ বছর বয়সী ফেদোরোভ ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি দেশটির ডিজিটাল রূপান্তরবিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর ইউক্রেনের ড্রোন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্টারলিংক ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেদোরোভ যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও তথ্যনির্ভর ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেন। তাঁর সময়ে ইউক্রেন দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা জোরদার করে।বিদায়ের দিন ফেদোরোভ দাবি করেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী সফলভাবে একটি নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। প্রতিরক্ষা খাতে সংস্কার ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে সামরিক কার্যক্রমের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে বলে জানান তিনি।তবে সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ফেদোরোভের মতবিরোধ ছিল বলে ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন রয়েছে। বিশেষ করে সেনাপ্রধান জেনারেল ওলেক্সান্ডার সিরস্কির সঙ্গে সেনা নিয়োগ, সামরিক সংস্কার ও যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নিয়ে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।জেলেনস্কি বলেছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে আরও বেশি ঐক্য প্রয়োজন। তবে ফেদোরোভকে সরানোর বিস্তারিত কারণ তিনি প্রকাশ করেননি। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেঙ্কোর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইউক্রেনের পার্লামেন্টে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।এর আগে প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের ফলে পুরো মন্ত্রিসভাও বিলুপ্ত হয়ে যায়। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাফতোগাজের প্রধান সের্হি কোরেতস্কিকে মনোনয়ন দিয়েছেন জেলেনস্কি।[BANGVIEWS-POST:1913]ফেদোরোভের অপসারণে বিরোধী রাজনীতিক, সামরিক কর্মকর্তা ও তাঁর সমর্থকেরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ইউক্রেনের ড্রোন যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তাও এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছেন।মস্কোয় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল ম্যাকফলসহ আন্তর্জাতিক মহলের কয়েকজন ব্যক্তি ফেদোরোভকে পদে বহাল রাখতে জেলেনস্কির প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে এসব অনুরোধ উপেক্ষা করেই তাঁকে সরানো হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বারবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পরিবর্তন ইউক্রেনের সামরিক নেতৃত্বে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর ফেদোরোভ ছিলেন ইউক্রেনের পঞ্চম প্রতিরক্ষামন্ত্রী।সূত্র: রয়টার্স