ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

অনলাইনে নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক বিক্রি, ই-কেমের আইটি ম্যানেজার গ্রেপ্তার

রাজধানীর নিকেতন ও কুড়িল এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক পদার্থসহ ই-কেম নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আইটি ম্যানেজার মো. আব্দুল মোমিন পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।বুধবার (২৬ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএনসি জানিয়েছে, অনলাইনে নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিকের খুচরা বিক্রির তথ্য পাওয়ার পর অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মোট ছয় লিটার বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ জব্দ করা হয়েছে।ডিএনসি জানায়, গত ২৪ আগস্ট ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা দলের সাইবার পেট্রোলিংয়ের সময় ই-কেমের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রির বিজ্ঞাপন ও অর্ডার নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। বিষয়টি যাচাই করতে গোয়েন্দারা ওই প্রতিষ্ঠানের প্ল্যাটফর্মে ৫০০ মিলিলিটার এসিটিক অ্যানহাইড্রাইডের অর্ডার করেন।অধিদপ্তরের দাবি, অর্ডার নেওয়ার সময় ক্রেতার কাছে নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক কেনার অনুমোদন, লাইসেন্স কিংবা ব্যবহারের উদ্দেশ্যসংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র চাওয়া হয়নি। পরে অর্ডার করা পণ্য নিকেতন এলাকায় পৌঁছালে গোয়েন্দা দল সেখানে অভিযান চালায়।[BANGVIEWS-POST:4520]অভিযানে একটি পার্সেল থেকে ৫০০ মিলিলিটার এসিটিক অ্যানহাইড্রাইড ও এক লিটার এসিটোন জব্দ করা হয়। পরে ডেলিভারিম্যানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কুড়িলের প্রগতি সরণি এলাকায় ই-কেমের কার্যালয়ের অবস্থান জানতে পারে ডিএনসি।এরপর একই দিন ওই কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির আইটি ম্যানেজার আব্দুল মোমিন পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএনসি জানিয়েছে, সেখানে নিয়ন্ত্রিত প্রিকারসর কেমিক্যাল বিক্রির কিছু নথিপত্র পাওয়া গেছে, যেখানে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের তথ্য ছিল না। সব মিলিয়ে অভিযানে ছয় লিটার রাসায়নিক জব্দ করা হয়।এ ঘটনায় ই-কেমের মালিকসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে ডিএনসি।ডিএনসির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রিকারসর কেমিক্যালের বৈধ শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যবহার রয়েছে। তবে এসব রাসায়নিক অবৈধ মাদক উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণেও ব্যবহার হতে পারে। এ কারণে আইন অনুযায়ী এগুলোর সরবরাহ, বিক্রি ও ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি রাখা হয়।[BANGVIEWS-POST:4518]অধিদপ্তর জানায়, এসিটিক অ্যানহাইড্রাইড অবৈধভাবে হেরোইন উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হতে পারে। একইভাবে বিভিন্ন রাসায়নিক মাদক তৈরির কাজে ব্যবহারের সুযোগ থাকায় এসব উপাদানের বেচাকেনা ও সরবরাহের ক্ষেত্রে ক্রেতা, পরিমাণ এবং ব্যবহারের উদ্দেশ্য যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।জব্দ করা রাসায়নিক, নথিপত্র ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করছে ডিএনসি। পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসব রাসায়নিকের উৎস, সরবরাহ ব্যবস্থা, ক্রেতা এবং সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে তদন্ত চালানো হচ্ছে।ডিএনসি বলছে, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু তৈরি মাদক উদ্ধার বা মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারই যথেষ্ট নয়। মাদক তৈরির কাঁচামাল কীভাবে সংগ্রহ হচ্ছে এবং বৈধ সরবরাহ ব্যবস্থার কোন পথ ব্যবহার করে এসব উপাদান অবৈধ কাজে যাচ্ছে, সেটিও শনাক্ত করা জরুরি। এ কারণে অনলাইনে সাইবার পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে রাসায়নিকের ডিজিটাল সরবরাহব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

অনলাইনে নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক বিক্রি, ই-কেমের আইটি ম্যানেজার গ্রেপ্তার