ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

উত্তপ্ত মণিপুর, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে লাশ রেখে বিক্ষোভ

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে চরম জাতিগত উত্তেজনা ও সহিংসতা। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে জঙ্গল থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে কুকি সশস্ত্র বিদ্রোহীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণে দুই মেইতেই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা নিহতদের মরদেহ নিয়ে রাজধানী ইম্ফলে মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিংয়ের সরকারি বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক দফা কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুই ব্যক্তি হলেন অরুবাম রনিল (৩৫) এবং লায়েরেনলাকপাম ইনাওবি (৫১)। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, এ হামলায় আরও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং অন্তত তিনজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সোমবার সকালে ১৪ জনের একটি দল পাহাড়ি সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি কাঠ কাটতে গিয়েছিল। ইম্ফল পূর্ব এবং কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতপরিচয় অস্ত্রধারীরা তাঁদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মরদেহগুলো নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন। তীব্র উত্তেজনার মুখে পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয় এবং মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য জওহরলাল নেহরু ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে পাঠায়। তবে বিক্ষোভ চলাকালে মুখ্যমন্ত্রী বাসভবনে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি। এদিকে রাজ্যটিতে রোববার রাত থেকেই নতুন করে একাধিক সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। মণিপুর পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক লহরি দর্জি লহাতু জানান, ১৮ অক্টোবর রাতে থৌবাল জেলার খাংগাবোক পালি বাজারে একটি স্থানীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে পাথর নিক্ষেপের জেরে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাজ মেডিসিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। সহিংসতা রুখতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ), সিআরপিএফ, আসাম রাইফেলস ও রাজ্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া পৃথক আরেক ঘটনায় সিংজামেই থানার সন্নিকটে কাকওয়া লামদাইবুং লাম্পাক এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে শক্তিশালী আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে সিআরপিএফের তিন সদস্য গুরুতর জখম হন। পুলিশ জানিয়েছে, বন থেকে কাঠ সংগ্রহকারীদের ওপর হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনা খতিয়ে দেখতে যৌথ তল্লাশি ও কঠোর তদন্ত শুরু হয়েছে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

উত্তপ্ত মণিপুর, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে লাশ রেখে বিক্ষোভ