চলতি বছরে শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে ভিয়েতনাম। উৎপাদন, নির্মাণ, সেবা, অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বিনিয়োগ—বিভিন্ন খাতের ইতিবাচক পারফরম্যান্সে দেশটির অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার পূর্বাভাসেও ভিয়েতনামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিষয়টি উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে এই হার। বছরের প্রথম ছয় মাসে ভিয়েতনামের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ।অর্থনীতির এই প্রবৃদ্ধিতে শিল্প ও নির্মাণ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। উৎপাদন কার্যক্রমে গতি বাড়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদাও শক্তিশালী হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:4378]এএফপির প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান ডিএফডিএলের স্ট্যান্ড্রে বেজুইনহাউট বলেন, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন ও সরবরাহ ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসকে বিনিয়োগের সুযোগে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছে ভিয়েতনাম। উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়িয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে দেশটি।বাণিজ্য ও বিদেশি বিনিয়োগের পরিসংখ্যানেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ভিয়েতনামের রপ্তানি আয় ২৬৬ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ ৬১ শতাংশ বেড়ে ৩৪ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।এদিকে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ভিয়েতনামের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আরও আশাবাদী পূর্বাভাস দিয়েছে। ব্যাংকটির হিসাবে, ২০২৬ সালে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে তা ১১ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।[BANGVIEWS-POST:4377]ব্যাংকটি ২০২৬ সালের জন্য ভিয়েতনামের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসও কমিয়ে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ করেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে দেশটির আর্থিক নীতি অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামবিষয়ক জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ টিম লীলাহাফানের মতে, বছরের প্রথমার্ধে ভিয়েতনাম অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের শক্তিশালী সক্ষমতা দেখিয়েছে। উৎপাদন ও সেবা খাতের কার্যক্রম, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সরকারের বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াতে সহায়তা করেছে।বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতির চাপ থাকলেও ভিয়েতনামের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব কারণে দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাও শক্তিশালী হচ্ছে।