সেঞ্চুরি থেকে মাত্র আট রান দূরে থামলেও দলীপ ট্রফিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন ভারতের কিশোর ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর ১৫৭ দিন বয়সে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে অর্ধশতরান করার রেকর্ড এখন তার দখলে।সোমবার (৩১ আগস্ট) বেঙ্গালুরুর বিসিসিআই সেন্টার অব এক্সেলেন্স গ্রাউন্ড-১-এ সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ইস্ট জোনের হয়ে ওপেন করতে নামেন বৈভব। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মাত্র ৪২ বলেই অর্ধশতরান পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি। সারাংশ জৈনের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে পঞ্চাশে পৌঁছে ৫৭ বছর ধরে টিকে থাকা রেকর্ডটি ভেঙে দেন তিনি। এর আগে দলীপ ট্রফিতে সর্বকনিষ্ঠ অর্ধশতরানকারীর রেকর্ড ছিল লক্ষ্মণ সিংয়ের। ১৯৬৯ সালে ১৬ বছর ২৩ দিন বয়সে তিনি এই কীর্তি গড়েছিলেন। পরে ২০০৫ সালে ১৬ বছর ৩০৭ দিন বয়সে অর্ধশতরান করে তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিলেন পীযূষ চাওলা।[BANGVIEWS-POST:4846] সেন্ট্রাল জোনের বোলারদের শুরু থেকেই চাপে রাখেন বৈভব। ব্যক্তিগত ৪০ রানে একবার জীবন পাওয়ার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। নব্বইয়ের ঘরে পৌঁছে শতকের সম্ভাবনাও তৈরি করেছিলেন।তবে ২৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। হর্ষ দুবের বলে আর্শাদ খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বৈভব। ৮১ বলে তার ৯২ রানের ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৭টি ছক্কা। ইস্ট জোনের শক্ত ভিত গড়ে দেওয়ার পথে অভিমন্যু ঈশ্বরণের সঙ্গে ১৬২ রানের উদ্বোধনী জুটিও গড়েন বৈভব। দলীপ ট্রফিতে নিজের প্রথম ম্যাচে মাত্র ৮ রান করা এই তরুণ সেমিফাইনালে ব্যাট হাতে দেখিয়েছেন ভিন্ন রূপ। এই অর্ধশতরান বৈভবের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্বিতীয় ফিফটি। এর আগে রঞ্জি ট্রফিতে বিহারের হয়ে মেঘালয়ের বিপক্ষে মাত্র ৩৩ বলে অর্ধশতরান করেছিলেন তিনি।[BANGVIEWS-POST:4845] আরও আট রান করতে পারলে দলীপ ট্রফির আরেকটি বড় রেকর্ডও নিজের করে নিতে পারতেন বৈভব। টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার রেকর্ডটি শচীন তেন্ডুলকরের। ১৯৯০-৯১ মৌসুমে ১৭ বছর ২৬২ দিন বয়সে শতক করেছিলেন শচীন। বৈভব শতক পেলে সেই দীর্ঘদিনের রেকর্ডও ভেঙে যেত। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে সেন্ট্রাল জোনকে ২৬৬ রানে অলআউট করে ইস্ট জোন। মুকেশ কুমার ও অভিজিৎ সরকার তিনটি করে উইকেট নেন। নিয়মিত অধিনায়ক ঈশান কিশান মাঠের বাইরে থাকায় ম্যাচের এক পর্যায়ে কয়েক ওভারের জন্য ইস্ট জোনের নেতৃত্বও সামলান বৈভব। ১৫ বছর বয়সেই দলীপ ট্রফির ৫৭ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে বৈভব আবারও ভারতীয় ক্রিকেটে নিজের প্রতিভার জানান দিলেন। শতক হাতছাড়া হলেও ৯২ রানের ইনিংসটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত প্রথম শ্রেণির ইনিংস হয়ে থাকল।