বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তিন কৌশল বাস্তবায়নের আহ্বান
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের মিলনায়তনে ‘কার্যকর কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এ আহ্বান জানান।পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশ-সুইসকন্টাক্ট বাংলাদেশ কনসোর্টিয়াম যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউল হক।[BANGVIEWS-POST:1770]স্বাগত বক্তব্য দেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কর্মসূচি ও নীতিগত সহায়তা বিভাগের পরিচালক পার্থ হেফাজ সেখ।সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশ-সুইসকন্টাক্ট বাংলাদেশ কনসোর্টিয়ামের ‘গো ফর ইমপ্যাক্ট’ প্রকল্পের দলনেতা সাঈফ মনজুর-আল-ইসলাম।পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৈয়দ আহম্মদ কবীর কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আইনি কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং অংশীজনদের অংশগ্রহণ নিয়ে আরেকটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।বিষয়ভিত্তিক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রওশন মমতাজ, জাতিসংঘের প্রকল্প সেবা কার্যালয়ের প্রধান পরিবেশ প্রকৌশলী তারিক বিন ইউসুফ, সিটি ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন বিভাগের পরিচালনা প্রধান মোল্লা করিমুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মাসুদ ইকবাল মোহাম্মদ শামীম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ শামসুল হক।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ বলেন, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন জাতীয় সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই।তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকলেও কার্যকর সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।প্লাস্টিক দূষণসহ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা মোকাবিলায় একটি সমন্বিত রোডম্যাপ তৈরির জন্য জাতীয় পর্যায়ে বৃহৎ কর্মশালা আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।[BANGVIEWS-POST:1767]সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় হ্রাস, পুনঃব্যবহার ও পুনর্ব্যবহার, এই তিনটি কৌশল কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।তার মতে, সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে একই কাঠামোর মধ্যে এনে কাজ করতে পারলেই টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব।অনুষ্ঠানে আলোচনার সারসংক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরেন সুইসকন্টাক্ট বাংলাদেশের ‘ইনস্পায়ার’ প্রকল্পের দলনেতা বিদৌরা তাহমিন খান।
সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান পার্থ হেফাজ সেখ।