ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

চার মাসের রুদ্ধশ্বাস যাত্রার পর শেষ হলো ‘বাংলার জয়যাত্রা’

বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ অবশেষে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় চার মাস বা ১১৫ দিন পারস্য উপসাগরে আটকে থাকার পর শেষ হলো জাহাজটির রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা।মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ সময় গভীর রাত ৩টার দিকে জাহাজটি সফলভাবে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেয়। বর্তমানে এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে জ্বালানি (বাংকারিং) গ্রহণের পর দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবে।বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, “১১৫ দিন পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা ‘বাংলার জয়যাত্রা’ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। পরবর্তী বাণিজ্যিক গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দর।”বিএসসি সূত্র জানায়, সংস্থাটির মালিকানাধীন জাহাজটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছিল। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছানোর পরদিনই ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরু হলে জাহাজটি পারস্য উপসাগরে আটকে পড়ে।এরপর একাধিকবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেও সফল হয়নি জাহাজটি। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার পর হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর অনুমতির অপেক্ষায় ছিল এটি। সোমবার আইআরজিসির অনুমোদন পাওয়ার পর শারজাহ বন্দরের বহির্নোঙর থেকে প্রণালির দিকে যাত্রা শুরু করে জাহাজটি।জানা গেছে, ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ৩১ জন নাবিকের সবাই বাংলাদেশি। কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায় জাহাজটি। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয় এবং জাহাজের নাবিকদের দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটাতে হয়। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের বহরে যুক্ত হওয়া ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ ৩৯ হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি জাহাজ। চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি) এটি নির্মাণ করে এবং চীন সরকারের সঙ্গে যৌথ অর্থায়নে জাহাজটি সংগ্রহ করা হয়।

চার মাসের রুদ্ধশ্বাস যাত্রার পর শেষ হলো ‘বাংলার জয়যাত্রা’