কোচ-খেলোয়াড় কেউই নেই সংবাদ সম্মেলনে, কথা বললেন শুধু ম্যানেজার
এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব সামনে রেখে মাঠের প্রস্তুতির চেয়ে মাঠের বাইরের ঘটনাই বেশি আলোচনায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে ঘিরে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে উজবেকিস্তানের উদ্দেশে যাত্রা করার আগে বাফুফে ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনেও সেই বিতর্কের ছাপ দেখা গেছে।সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স, সহকারী কোচ আতিকুর রহমান কিংবা কোনো ফুটবলার উপস্থিত ছিলেন না। দলের হয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তর দেন শুধু টিম ম্যানেজার সামিদ কাশেম।কোচদের অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সামিদ কাশেম বলেন, ‘যেহেতু একটা ঘটনা ঘটেছে, সেটার তদন্তও চলছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা চাইনি কোচদের মিডিয়ার মুখোমুখি করতে।’[BANGVIEWS-POST:4592]এর আগে জেরার্ড জোন্সকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও বাফুফে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। জোন্সও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ভিডিও বার্তায় জানিয়েছিলেন, তাকে বরখাস্ত করার বিষয়ে ফেডারেশন কিছু জানায়নি। বুধবারও তার অধীনেই অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল।দলকে ঘিরে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমানের মধ্যে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে। গত ১৯ আগস্ট টিম হোটেলে দুই কোচের মধ্যে কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কিতে গড়ায় বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এরপর জোন্স জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকেন।ঘটনাটি বর্তমানে বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটি তদন্ত করছে। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর আগে জোন্স বেতনসংক্রান্ত জটিলতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছিলেন, যা নিয়ে বাফুফের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়।[BANGVIEWS-POST:4591]তবে মাঠের বাইরের এসব বিতর্কের মধ্যেই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী জেরার্ড জোন্স ও আতিকুর রহমানকে দলের সঙ্গে উজবেকিস্তানে পাঠানোর অবস্থানেই রয়েছে বাফুফে। দলের ভিসা ও টিকিটের কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়েছে।এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ‘বি’ গ্রুপে খেলবে বাংলাদেশ। স্বাগতিক উজবেকিস্তানের পাশাপাশি গ্রুপে রয়েছে ভারত ও সিরিয়া। ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের অভিযান শুরু হবে। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর সিরিয়া এবং ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের যুবারা।বাছাইপর্বে আট গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল এবং সেরা সাত রানার্সআপ মূল পর্বে জায়গা পাবে। ফলে মাঠের বাইরের অস্থিরতা পেছনে ফেলে মাঠের লড়াইয়ে মনোযোগ ফেরানোই এখন বাংলাদেশ দলের বড় চ্যালেঞ্জ।