মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ২৭০ অভিবাসী আটক
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যে দুটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ২৭০ জন অভিবাসী শ্রমিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটকদের বিরুদ্ধে ভিসা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।মঙ্গলবার ‘অপস মেগা’ নামে পরিচালিত অভিযানে মেরু ও তেলোক গং এলাকার দুটি কারখানায় কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। অভিযানে মোট ৫৮৬ জন বিদেশি শ্রমিকের তথ্য পরীক্ষা করে ২৭০ জনকে আটক করা হয়।[BANGVIEWS-POST:565]আটকদের মধ্যে বাংলাদেশ, নেপাল, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার নাগরিক রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের উপপরিচালক মোহদ খুসাইরি কামারুদ্দিন জানান, অভিযানের প্রথম ধাপে মেরুর একটি প্লাস্টিক কারখানায় ৬৬ জন শ্রমিকের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। সেখানে ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গের সন্দেহে ১৮ জনকে আটক করা হয়।পরে তেলোক গংয়ের একটি আসবাবপত্র কারখানায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে ৫২০ জন বিদেশি শ্রমিকের নথিপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ২৫২ জনকে আটক করা হয়েছে।ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অনুমোদিত খাতের বাইরে কাজ করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পাস নিয়ে অবস্থানের অভিযোগ রয়েছে।অভিযান চলাকালে কয়েকজন শ্রমিক পালানোর চেষ্টা করেন। কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি টের পেয়ে কেউ কারখানার ভেতরে লুকিয়ে পড়েন, আবার কেউ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, তেলোক গংয়ের কারখানায় এক বাংলাদেশি শ্রমিক গ্রেফতার এড়াতে বর্জ্যবাহী রোল-অন/রোল-অফ কনটেইনারের ভেতরে ময়লার স্তূপের আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন। পরে তল্লাশির সময় তাকে খুঁজে বের করা হয়।এ ছাড়া কয়েকজন শ্রমিক কাঠ কাটার মেশিন ও বড় বাক্সের পেছনে লুকিয়েও শেষ পর্যন্ত আটক হন।মোহদ খুসাইরি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পাসের অপব্যবহার এবং নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থানের ঘটনা বেশি পাওয়া গেছে। কয়েকজন বৈধ পাস থাকার দাবি করলেও অভিযানের সময় প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে পারেননি।[BANGVIEWS-POST:564]তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শ্রমিকদের বৈধতা, অবস্থান ও কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস অনুমোদিত খাত ও নির্ধারিত কর্মস্থলে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা নিয়োগকর্তার দায়িত্ব।আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগ।