বিজিবির সক্ষমতা ও জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে বাহিনীটির অপারেশনাল সক্ষমতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্ব আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে পৌঁছালে বিজিবির একটি সুসজ্জিত দল তাঁকে গার্ড অব অনার দেয়।[BANGVIEWS-POST:2167]পরে বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং নেন সালাহউদ্দিন আহমদ।এরপর পিলখানার শহীদ শাকিল আহমেদ হলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সভায় বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও), বিভিন্ন পদবির সদস্য এবং বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।সারা দেশে বিজিবির বিভিন্ন রিজিয়ন, সেক্টর, ব্যাটালিয়ন ও সীমান্ত ফাঁড়িতে কর্মরত সদস্যরাও ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য বিজিবি সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইন ঠেকানোর পাশাপাশি মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য পণ্যের চোরাচালান এবং মানব পাচার প্রতিরোধে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি।বাহিনীর শৃঙ্খলা, চেইন অব কমান্ড, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থেকে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।সীমান্ত নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার, সীমান্তবর্তী মানুষের আস্থা অর্জন এবং দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে মানবিক ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে সব ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, জবাবদিহি ও আইনের শাসন অনুসরণের নির্দেশ দেন তিনি।‘সবার আগে বাংলাদেশ’ মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিজিবি সদস্যরা শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ ও পেশাদারত্বের মাধ্যমে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা অব্যাহত রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।[BANGVIEWS-POST:2165]মতবিনিময় সভা শেষে তিনি বিজিবি সদর দপ্তরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে ‘সীমান্ত গৌরব’, ২০০৯ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ এবং ‘দীপ্ত সীমান্ত’ বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ পিলখানার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করেন। সীমান্ত কুঞ্জ এলাকায় একটি গাছের চারাও রোপণ করেন তিনি।পরিদর্শন শেষে শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি বিজিবিকে আরও আধুনিক ও কার্যকর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে জনবল বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তি, যানবাহন, অস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের উদ্যোগের কথা জানান।