যুক্তরাজ্যে ফেরার পর প্রথমবার একসঙ্গে জনসমক্ষে হ্যারি-মেগান
দীর্ঘ ছয় বছর পর গত আগস্টে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে ফিরে আসার পর বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রথমবারের মতো একসঙ্গে জনসমক্ষে উপস্থিত হলেন ব্রিটিশ রাজপুত্র হ্যারি এবং তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কেল। দেশটির নটিংহ্যাম শহরে পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় এই দম্পতি সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, ছবি তোলেন এবং ভক্তদের দেওয়া ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইউরো নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাসেক্সের ডিউক ও ডাচেস হিসেবে পরিচিত এই দম্পতি নটিংহ্যামের তিনটি স্থানীয় দাতব্য সংস্থা পরিদর্শন করেন। সংস্থাগুলো যুব উন্নয়ন, সংগীত, চলচ্চিত্র, ক্রীড়া ও স্থানীয় পর্যায়ের খাদ্যসংকট নিরসনে কাজ করে থাকে।ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের কনিষ্ঠ পুত্র ৪২ বছর বয়সী হ্যারি এবং ৪৫ বছর বয়সী মেগান ২০২০ সালে রাজপরিবারের সঙ্গে টানাপোড়েনের জেরে রাজকীয় দায়িত্ব ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে চলতি বছরের আগস্টে তাঁদের দুই সন্তান সাত বছর বয়সী আর্চি ও পাঁচ বছর বয়সী লিলিবেটকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসেন।তবে নটিংহ্যামের এই যৌথ সফর বাকিংহাম প্যালেসের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক বলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। গত মাসে প্রকাশিত এক চিঠিতে রাজা তৃতীয় চার্লস স্পষ্ট করেছিলেন যে, জনপরিসরে তাঁদের অবস্থান হবে সাধারণ নাগরিকের মতো এবং তাঁদের ক্ষেত্রে ‘হিজ রয়্যাল হাইনেস’ বা ‘হার রয়্যাল হাইনেস’ পদবি ব্যবহার করা যাবে না।পারিবারিক দূরত্বের মধ্যেও হ্যারি ও মেগান রাজার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালালেও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে তাঁদের বরফ এখনো পুরোপুরি গলেনি। তবে নটিংহ্যাম সফরে রাজকীয় আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে সরাসরি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া এবং যুবকল্যাণমূলক কাজে অংশ নেওয়াই ছিল এ জুটির প্রধান আকর্ষণ।