ভারতের ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাজধানী রাঁচিতে কয়েকদিন ধরে চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আন্দোলনকারীরা পরীক্ষা বাতিল এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতোর নেতৃত্বে গত ২৯ জুলাই থেকে রাঁচির জয়পাল সিং স্টেডিয়ামে বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থী অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ১৪তম ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (জেএসএসসি) কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসসহ ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এছাড়া মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষায় সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তারা।বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে ১৪তম জেপিএসসি পরীক্ষা বাতিল, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই) অথবা রাজ্যের বাইরের কোনো অবসরপ্রাপ্ত উচ্চ আদালতের বিচারকের তত্ত্বাবধানে তদন্ত পরিচালনা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ পরিস্থিতিতে তারা অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন।[BANGVIEWS-POST:3231]আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নির্ধারিত জেপিএসসি প্রধান পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।এদিকে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা একটি জাতীয় সমস্যা এবং তার সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তিনি জানান, তদন্তকারী সংস্থাগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।মুখ্যমন্ত্রী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে তার সরকারি বাসভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এর আগে প্রশাসনের কর্মকর্তারা আন্দোলনস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে সরকারের আলোচনার প্রস্তাব পৌঁছে দেন।ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন বাড়ছে। ঝাড়খণ্ডের চলমান আন্দোলনও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।সূত্র: এনডিটিভি