ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

যুদ্ধপরবর্তী নিরাপত্তায় পরমাণু অস্ত্র তৈরির দাবিতে সরব ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের পর নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পক্ষে প্রকাশ্যে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন ইরানের প্রভাবশালী রাজনীতিক, আইনপ্রণেতা ও শীর্ষ ধর্মীয় নেতারা। দেশটির নীতিনির্ধারকদের একটি বড় অংশ এখন আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে সরাসরি বেরিয়ে এসে পরমাণু বোমা তৈরির কার্যক্রম শুরু করার জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। ফলে তেহরানের কয়েক দশকের ঘোষিত পারমাণবিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তৈরি হচ্ছে।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বিশেষ প্রতিবেদনের বরাতে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্স এ তথ্য প্রকাশ করে। পরবর্তীতে বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) ইয়াহু নিউজেও প্রতিবেদনটি গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হয়।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ার পর ইরানের কট্টরপন্থী রাজনৈতিক ও সামরিক শিবির মনে করছে, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং ভবিষ্যতে শত্রুপক্ষের হামলা প্রতিহত করতে পারমাণবিক বোমার বিকল্প নেই। তাঁদের সামরিক যুক্তি হলো, তেহরানের হাতে যদি কার্যকর পারমাণবিক ডেটারেন্স (প্রতিরোধ ব্যবস্থা) থাকে, তবে যেকোনো পরাশক্তি দেশটিতে সরাসরি সামরিক অভিযান চালানোর আগে ভয়াবহ পরিণতির কথা ভেবে পিছু হটতে বাধ্য হবে।ইরানের পার্লামেন্টের প্রভাবশালী সদস্য আবুলফজল আবুতোরাবি সম্প্রতি এনপিটি চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করে অবিলম্বে পারমাণবিক বোমা তৈরির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সুরে অপর আইনপ্রণেতা মাহমুদ নাবাভিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, দীর্ঘ যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চড়া মূল্য দেওয়ার পরও চুক্তিতে থাকার কোনো কার্যকারিতা নেই; তাই এখন সময় এসেছে এনপিটি ত্যাগ করে দেশের সামরিক পরমাণু নীতি ঘোষণা করার।পার্লামেন্টেও এ নিয়ে আইনি তৎপরতা দ্রুত এগোচ্ছে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ি জানিয়েছেন, এনপিটি থেকে বেরিয়ে আসার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে ইতিমধ্যে পার্লামেন্টে অন্তত ১০টি পৃথক বিল ও প্রস্তাব জমা পড়েছে।রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরাও পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনার পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছেন। বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতা মোহাম্মদ জাভাদ হাজ আলী আকবরি তেহরানের এক জুমার খুতবায় পারমাণবিক নীতি আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে একে ইরানের জনগণের ‘জাতীয় আকাঙ্ক্ষা’ হিসেবে ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে দেশটির কট্টরপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন পায়দারি ফ্রন্টও আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। তাদের যুক্তি, এনপিটির সদস্য হয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) সুযোগ দেওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন থেকে ইরান সুরক্ষা পায়নি। এমনকি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম তাসনিমও এই চুক্তিতে টিকে থাকার উপযোগিতা নিয়ে কঠোর সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে।অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে তাঁর সাম্প্রতিক সব সামরিক অভিযানের পক্ষে প্রধান সাফাই হিসেবে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ধ্বংস করার বিষয়টি তুলে ধরছেন। হোয়াইট হাউস থেকে বারবার স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করা হয়েছে যে, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক বোমা অর্জন করতে দেওয়া হবে না, কারণ পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ইরান যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

যুদ্ধপরবর্তী নিরাপত্তায় পরমাণু অস্ত্র তৈরির দাবিতে সরব ইরান