যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী নিরাপত্তা বিষয়ে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের কঠিন লড়াইয়ের আশঙ্কার মধ্যেই এই ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তিনি। হোয়াইট হাউস এখনো ঠিক করেনি, ট্রাম্পের ভাষণে ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচনে চীনের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপসংক্রান্ত গোপন গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করা হবে কি না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওই গোয়েন্দা তথ্যে চীন ভোটের ফল পরিবর্তন বা ভোট কারচুপি করেছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, তথ্যগুলো প্রকাশ করা হলে তা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।[BANGVIEWS-POST:1957] হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ট্রাম্প ভাষণে শেষ পর্যন্ত কী বলবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ভাষণে নির্বাচনী ব্যবস্থা, ডাকযোগে ভোট এবং ভোটার নিবন্ধন নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের অভিযোগ উঠে আসতে পারে। ২০২০ সালের নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুললেও আদালত ও পুনর্গণনায় বড় ধরনের কারচুপির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প রাজ্যনিয়ন্ত্রিত নির্বাচন ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ নামে একটি বিল পাসে রিপাবলিকান সিনেটরদের ওপর চাপ দিচ্ছেন। প্রস্তাবিত আইনে ভোট দেওয়ার সময় ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র এবং ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার কথা রয়েছে। ডেমোক্র্যাট ও ভোটাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এতে বৈধ ভোটাররা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তবে রিপাবলিকান দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা ট্রাম্পকে ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা না করে জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়সহ বর্তমান ইস্যুতে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন বলেছেন, তাঁর দল এখন ২০২৬ সালের নির্বাচন নিয়েই ভাবছে।[BANGVIEWS-POST:1939] নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের মাত্র তিনটি আসন জিততে হবে। অন্যদিকে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথ তাদের জন্য তুলনামূলক কঠিন। ডেমোক্র্যাট নেতারা আশঙ্কা করছেন, হোয়াইট হাউস নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে। এদিকে ট্রাম্পের ভাষণ সরাসরি সম্প্রচারে মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো সময় দেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজসহ কয়েকজন নেতা নেটওয়ার্কগুলোকে ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, ট্রাম্প নির্বাচনের বিষয়ে আবারও প্রমাণহীন দাবি তুলতে পারেন। সূত্র: রয়টার্স