ঢাকা    রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

'ডিভোর্স যেই দিক, দেনমোহর পরিশোধে স্বামী বাধ্য'

বিয়েতে নির্ধারিত দেনমোহর পরিশোধে স্বামী সবসময় বাধ্য এবং ডিভোর্স কে দিয়েছেন, সেটি এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার।রোববার বিয়ের সময় ধার্য করা দেনমোহর আদায়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট দায়ের করেন তিনি।ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার বলেন, দেনমোহর ইসলামি শরিয়াহ ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী স্ত্রীর বৈধ অধিকার। বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর বা বিয়ের সময় যে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়, তা পরিশোধ করা স্বামীর আইনগত দায়িত্ব। ডিভোর্স স্বামী বা স্ত্রী, যে পক্ষ থেকেই হোক, দেনমোহর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থেকে স্বামী মুক্ত নন।[BANGVIEWS-POST:1235]তিনি বলেন, মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী দেনমোহর পরিশোধ বাধ্যতামূলক। তবে বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে বিলম্বিত দেনমোহর দীর্ঘ সময় পরও আগের নির্ধারিত অর্থমূল্যেই পরিশোধ করা হয়। এতে নারীর ন্যায্য আর্থিক অধিকার পুরোপুরি সুরক্ষিত হয় না।রিটে বলা হয়েছে, উদাহরণ হিসেবে ২০ বছর আগে দুই লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হলে এক লাখ টাকা তাৎক্ষণিক এবং বাকি এক লাখ টাকা বিলম্বিত দেনমোহর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পর বিচ্ছেদের সময় সেই একই এক লাখ টাকা পরিশোধ করে দায় শেষ করা হলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতার পরিবর্তন বিবেচনায় তা ন্যায়সংগত হয় না।আবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে টাকার মূল্য কমে যাওয়ায় দেনমোহরের মূল উদ্দেশ্য, অর্থাৎ নারীর আর্থিক সুরক্ষা, অনেক ক্ষেত্রে ব্যাহত হয়। এ কারণে বিবাহের এক বছর পর বা তার বেশি সময় পরে পরিশোধযোগ্য দেনমোহরের মূল্যায়ন, আদায় পদ্ধতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।রিটে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:1231]এ ছাড়া মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ১০ ধারার অধীনে দেনমোহর আদায়ে একটি সমন্বিত নির্দেশিকা প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।রিটে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত নীতিমালার মাধ্যমে বিবাহের তারিখের এক বছর পর প্রদেয় দেনমোহরের মূল্যায়ন ও আদায়ের পদ্ধতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এতে নারীদের আর্থিক অধিকার সংরক্ষণ, আইনের অস্পষ্টতা দূরীকরণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সহজ হবে।

'ডিভোর্স যেই দিক, দেনমোহর পরিশোধে স্বামী বাধ্য'