পোশাকশ্রমিক তৌফিকের মৃত্যুর প্রতিবাদে আশুলিয়ায় বিক্ষোভ ও ভাঙচুর
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে গাজীপুরে সংঘর্ষে আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর প্রতিবাদে সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল ও ভাঙচুর চালিয়েছেন পোশাকশ্রমিকেরা। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে নিরাপত্তাজনিত কারণে আশুলিয়া এলাকার অন্তত ৭০টি পোশাক কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিভিন্ন এলাকার পোশাকশ্রমিকেরা মিছিল নিয়ে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় জড়ো হন। এরপর প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার শ্রমিক তৌফিক হত্যার বিচারের দাবিতে একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ঘোষবাগ, নরসিংহপুর ও সরকার মার্কেট এলাকা প্রদক্ষিণ করে বেরন এলাকার এনভয় গার্মেন্টসের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় বিক্ষোভের একপর্যায়ে কিছু কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর চালানো হয়।এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জামগড়া এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁরা আশপাশের অন্যান্য চালু কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে কাজ বন্ধের চেষ্টা চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে কয়েকজনকে আটকের চেষ্টা করলে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পরে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।শিল্প পুলিশ, শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকেরা যথারীতি কারখানায় প্রবেশ করে ডিজিটাল কার্ড পাঞ্চের মাধ্যমে হাজিরা নিশ্চিত করেন। তবে কিছুক্ষণ অবস্থানের পরই তাঁরা দলবদ্ধভাবে কারখানার বাইরে বেরিয়ে আসেন। এরপর অন্য কারখানার প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে সহকর্মীদের কাজে যোগ না দেওয়ার আহ্বান জানান এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে অন্যান্য কারখানার শ্রমিকেরাও তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হলে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে তাঁদের আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে চলছে। সরকার সম্প্রতি নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করলেও এবং আগামী ডিসেম্বর থেকে নতুন কাঠামো কার্যকরের আলোচনা চালালেও ঠিক কত টাকা মজুরি চূড়ান্ত হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এই দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তার কারণেই তাঁরা রাজপথ ছাড়ছেন না।সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, গাজীপুরে আন্দোলন চলাকালে সংঘর্ষে আহত হয়ে পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর প্রতিবাদেই মূলত শ্রমিকেরা জিরাবো থেকে বেরন পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন। তিনি বলেন, সকালে জামগড়ায় কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে নেমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা ও পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছুড়ে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এ অঞ্চলের মোট ১৮৬৩টি পোশাক কারখানার মধ্যে নিরাপত্তা বিবেচনায় ৭০টি কারখানা আজকের জন্য সাময়িক ছুটি দেওয়া হয়েছে, বাকিগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে।