ঢাকার ট্রাফিক নজরদারিতে চালু হবে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ক্যামেরা
রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক আইন কার্যকর করা এবং যান চলাচলে শৃঙ্খলা বাড়াতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির পরিধি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ব্যয়বহুল এআই ক্যামেরার পাশাপাশি কম খরচের ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ক্যামেরা ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান ডিএমপি সদর দপ্তরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ পরিকল্পনার কথা জানান।তিনি বলেন, “ডিএমপি আশা করছে, এসব ক্যামেরার মাধ্যমে কম খরচে রাজধানীর আরও বেশি এলাকায় নজরদারির আওতা বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”[BANGVIEWS-POST:1768]আনিছুর রহমান জানান, বর্তমানে ব্যবহৃত এআই ক্যামেরাগুলো কার্যকর হলেও এগুলোর দাম তুলনামূলক বেশি। দ্রুত নজরদারির আওতা বাড়াতে কম ব্যয়ের নতুন ক্যামেরা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, “আমরা সে দিকটি নিয়েই কাজ করছি। ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির অংশ হিসেবে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ নামে একটি নতুন সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমানে এআই প্রযুক্তির যে ক্যামেরাগুলো ব্যবহার করা হয়, সেগুলো কার্যকর হলেও তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল। কিন্তু ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নের জন্য খুব দ্রুত আমাদের নজরদারির আওতা বাড়ানো প্রয়োজন। সে কারণেই আমরা ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ নামে নতুন ধরনের ক্যামেরা নিয়ে আসছি।”নতুন ক্যামেরাগুলোর দাম কম হলেও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত ও নজরদারির ক্ষেত্রে কার্যকর হবে বলে আশা করছে ডিএমপি। ক্যামেরার সংখ্যা বাড়লে রাজধানীর আরও বেশি সড়ক ও মোড় ডিজিটাল পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব হবে।এআই ক্যামেরা চালুর পর নগরবাসীর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার।তিনি বলেন, “আমি সবসময়ই নগরবাসীর প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। কারণ আমাদের এআই ক্যামেরার এই নতুন পথচলা মাত্র দুই মাসের হলেও ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। নগরবাসী এতটা দৃশ্যমান সহযোগিতা করবেন, শুরুতে তা আশা করিনি। তারা ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন, সিগন্যাল অনুসরণ করছেন এবং আধুনিক উদ্যোগগুলোর প্রশংসাও করছেন। এর অর্থ, কাউকে জোর করে আইন মানানো হচ্ছে না। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিয়ম মেনে চলছেন।”ঢাকার যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে মিশ্র যানবাহন, অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন বৃদ্ধি এবং উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থার ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন তিনি।আনিছুর রহমান বলেন, রাজধানীতে যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহন একই সড়কে চলাচল করায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়ে। অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলও নগরবাসীর ভোগান্তির কারণ হচ্ছে।তার মতে, প্রতিটি শহরের যানবাহন ধারণের একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকলেও ঢাকায় যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক আনফিট গাড়ি চলাচল করছে।তিনি বলেন, এই মেগাসিটির জন্য এখনো মানসম্মত ও কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। উন্নত গণপরিবহন ছাড়া বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা কঠিন।পথচারীদের আচরণও যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অনেকেই নির্ধারিত স্থান ব্যবহার না করে যত্রতত্র রাস্তা পার হন এবং ট্রাফিক সিগন্যাল মানতে চান না।[BANGVIEWS-POST:1767]আনিছুর রহমান বলেন, “বিশ্বজুড়েই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা শুধু গাড়ির চালক, মালিক বা ট্রাফিক পুলিশের ওপর নির্ভর করে না। এর বড় একটি অংশ নির্ভর করে সড়ক ব্যবহারকারীদের, বিশেষ করে পথচারীদের মানসিকতা ও আচরণগত অভ্যাসের ওপর। আমাদের বাস্তবতায় সেই পরিবর্তন এখনো পুরোপুরি আসেনি।”রাজধানীর কোন এলাকায় কখন যানজট বেশি হয়, সে অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। পিক ও অফ-পিক সময় বিবেচনা করে বিভিন্ন এলাকায় সদস্যসংখ্যা বাড়ানো বা কমানো হয়।রাজধানীর প্রায় ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় সেখানে ২৪ ঘণ্টা ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। তবে শুধু ম্যানুয়াল ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘ মেয়াদে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বলে মনে করছে ডিএমপি।এ কারণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর, দ্রুত ও আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।