ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এলপিজি বিক্রি বন্ধে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি জ্বালানিমন্ত্রীর

দেশজুড়ে এলপিজি সরবরাহ সংকট ও বাড়তি দামের মধ্যে টানা দুই দিন গ্যাস বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ও শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। তবে কর্মসূচির সুযোগে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সরকার।বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ অবস্থান জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, পণ্য সরবরাহ বন্ধ করে বারবার মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যবসায়ীদের যেকোনো যৌক্তিক সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে।বৈঠকে দেশের বর্তমান এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি এবং আগামী বছরের চাহিদা পূরণে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের পরিবর্তন, বৈশ্বিক সংকট এবং আমদানির উৎস নিয়ে অনিশ্চয়তা দেশের এলপিজি খাতে চাপ তৈরি করেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বেসরকারি আমদানিকারকদের বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে হচ্ছে।এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও সাধারণ মানুষের জন্য সহনীয় মূল্যে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডিলার পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনকে সক্রিয় করা হয়েছে।ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, আগামী ৩০ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।ভারত ও বাংলাদেশের এলপিজির দামের পার্থক্য নিয়েও কথা বলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি জানান, ভারতে সরকারি ভর্তুকির আওতায় নির্দিষ্ট সুবিধাভোগীরা তুলনামূলক কম দামে এলপিজি পান। বাংলাদেশে এমন ভর্তুকি ব্যবস্থা নেই। এখানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশ থেকে এলপিজি আমদানি করে বাজারে সরবরাহ করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে পড়ে।সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, এলপিজির বাজার স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশে এলপিজি আমদানির দায়িত্ব বেসরকারি খাতের হাতে থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এর দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি।ব্যবসায়ীদের কমিশন, লাভ-লোকসান ও অন্যান্য বাণিজ্যিক সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে দাবি আদায়ের নামে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি কিংবা জনস্বার্থের পরিপন্থী কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা হলে তা গ্রহণ করা হবে না বলেও সতর্ক করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।এদিকে, ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধসহ কয়েকটি দাবিতে দুই দিনের বিক্রয় বন্ধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড।গত সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মো. সেলিম খান এ ঘোষণা দেন। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি।এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের।গত ৪ অক্টোবর বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। অথচ বাজারে একই সিলিন্ডার ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টানা দুই দিন এলপিজি বিক্রি বন্ধ থাকলে ভোক্তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এলপিজি বিক্রি বন্ধে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি জ্বালানিমন্ত্রীর