ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ সন্ত্রাসী চুয়া সেলিমসহ ৩ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর জেনেভা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-২। তাদের মধ্যে ৩৬ মামলার আসামি চুয়া সেলিম ওরফে ‘চোরা সেলিম’ রয়েছেন। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি ও হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জেনেভা ক্যাম্পের একটি গোপন স্থানে অভিযান চালিয়ে চুয়া সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৭.৬৫ ক্যালিবারের একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড তাজা গুলি এবং ১১০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার চুয়া সেলিমের বয়স ৪৪ বছর। তিনি চুয়া সেলিম ও চোরা সেলিম নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে জেনেভা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, হত্যাকাণ্ড, মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধে নেতৃত্ব ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি ধানমন্ডি এলাকা থেকে র‌্যাব-২ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল।একই দিনে মোহাম্মদপুর থানার চাঁদ উদ্যান এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং ‘মাহি’ গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকসহ মোট ১০টি মামলা রয়েছে।[BANGVIEWS-POST:4187]র‌্যাবের দাবি, জয় ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে জেনেভা ক্যাম্প, ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান ও নবীনগর এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। এর আগে ২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করেছিল।এ ছাড়া মোহাম্মদপুর থানার বিজলী মহল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মো. রতন ওরফে ‘বোমা রতনকে’ গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব জানায়, তার বিরুদ্ধে মোট ২০টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মগবাজার রোড, বসিলা ও জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই এবং অস্ত্রধারী চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর আগে ২০২২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি মগবাজার রোড এলাকা থেকে ধারালো অস্ত্রসহ তাকে আটক করা হয়েছিল।র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, চুয়া সেলিমের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা ও হত্যা চেষ্টার সাতটি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৪টি, বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১৩টি, বিস্ফোরক আইনে একটি এবং দাঙ্গা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার একটি মামলাসহ মোট ৩৬টি মামলা রয়েছে।[BANGVIEWS-POST:4186]অন্যদিকে, জয়য়ের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দস্যুতা, ডাকাতির প্রস্তুতি, হত্যা চেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাঁচটি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি, আদাবর থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির একটি এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রয়েছে।মো. রতন ওরফে বোমা রতনের বিরুদ্ধে থাকা ২০টি মামলার মধ্যে দস্যুতা, ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র আইন, ছিনতাই ও সিঁধেল চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে ১০টি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরও ১০টি মামলা রয়েছে।র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ সন্ত্রাসী চুয়া সেলিমসহ ৩ জন গ্রেপ্তার