ঢাকা    রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

৫ আগস্টের সেই যাত্রা, শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার দেশত্যাগের ঘটনা নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশেষ করে সামরিক বিমানে তাদের তুলে দেওয়ার পর তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী কেন শেষ মুহূর্তে সেই বিমানে ওঠেননি, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে সামরিক ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে ভারতে পাঠানোর পরও তারিক আহমেদ সিদ্দিকী দেশে থেকে যান এবং পরে ভিন্ন পথে দেশত্যাগ করেন। তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট দুপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে শেখ হাসিনাকে দ্রুত গণভবন ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর বিমানবাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টারে করে তাকে ও শেখ রেহানাকে কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে নেওয়া হয়।[BANGVIEWS-POST:3221]সামরিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই হেলিকপ্টারের পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর আব্বাস এবং কো-পাইলট ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির। বিকেল ৩টার দিকে হেলিকপ্টারটি কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে অবতরণ করে।এরপর শেখ হাসিনা বিমানবাহিনীর একটি সি-১৩০ জুলিয়েট সামরিক পরিবহন বিমানে করে ভারতের উদ্দেশে রওনা হন। ওই বিমানের পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর শামীম রেজা এবং কো-পাইলট ছিলেন উইং কমান্ডার মাহফুজ বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।যুগান্তরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিমানটি ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে ভারতের দিল্লির কাছে হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে।প্রতিবেদনে সামরিক সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে উড্ডয়নের সময় বিমানের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং প্রচলিত রুটের পরিবর্তে বিকল্প পথ ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার দায়িত্বেও পরিবর্তন আসে। এয়ার কমোডর আব্বাসকে প্রশিক্ষণ কোর্সে পাঠানো হয় এবং পরে তিনি বিমানবাহিনী সদর দপ্তরের একটি দায়িত্বে যোগ দেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:3220]গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির বর্তমানে বাশার এয়ার বেইজে প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একইভাবে সি-১৩০ বিমানের পাইলট এয়ার কমোডর শামীম রেজা ও কো-পাইলট উইং কমান্ডার মাহফুজের বর্তমান দায়িত্ব নিয়েও তথ্য দেওয়া হয়েছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে সরিয়ে নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে পরিচালিত হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর বিমানে না ওঠার কারণ নিয়ে এখনো কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

৫ আগস্টের সেই যাত্রা, শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন