ঢাকা    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এসএমই খাতে ৫ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য : শিল্পমন্ত্রী

কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অর্থনীতিতে গতি আনতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে আরও শক্তিশালী করা সরকারের অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।বুধবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সহযোগিতায় এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: এসএমই খাতের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।[BANGVIEWS-POST:545]শিল্পমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা শুরু থেকে পণ্য আমদানি বা রপ্তানি পর্যন্ত সময়সীমা ৩৫৫ দিন থেকে কমিয়ে ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। একই সঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতেও কাজ চলছে।তিনি বলেন, একটি দেশের অর্থনীতির গতি অনেকাংশে এসএমই খাতের সম্প্রসারণের ওপর নির্ভর করে। এ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন করে বিসিক শিল্পপার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য এসএমই খাতে প্রায় পাঁচ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।মন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত সরকার স্বল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিলেও তার দৃশ্যমান প্রতিফলন অর্থনৈতিক উন্নয়নে দেখা যায়নি।ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী।অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ আলম। সভা সঞ্চালনা করেন ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে এসএমই খাতের উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশন ১১৩টি প্রস্তাব দিয়েছিল। এর মধ্যে ৩৬টি প্রস্তাব সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। গৃহীত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে আয়কর সংক্রান্ত ১২টি, ভ্যাট সংক্রান্ত ৫টি এবং শুল্ক সংক্রান্ত ১৯টি প্রস্তাব রয়েছে।প্রবন্ধে আরও বলা হয়, প্রথমবারের মতো বাজেটের বিভিন্ন প্রস্তাবনায় সিএমএসএমই খাতের জন্য প্রায় ৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।তবে এসএমই ফাউন্ডেশনের মতে, জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২, জাতীয় এসএমই নীতিমালা ২০২৬-এর খসড়া, ন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসি ২০২৩ এবং রপ্তানি নীতিমালা ২০২৪-২০২৭-এ এসএমই খাতের জন্য বিভিন্ন কর ছাড় ও প্রণোদনার কথা থাকলেও বাস্তবে এসব সুবিধা যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে না।ফাউন্ডেশন মনে করে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে এসব নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর ও শুল্ক সুবিধা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা জরুরি।মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এমএসএমই খাতের বিকাশে পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় তিনটি সরকারি সংস্থার মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণের জন্য আগামী অর্থবছরে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ বরাদ্দ আরও বাড়ানোর পাশাপাশি এসএমই ফাউন্ডেশনের জন্য কমপক্ষে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা যেতে পারে।তিনি আরও বলেন, সরকারের ‘একটি গ্রাম, একটি পণ্য’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি খাতের উন্নয়নে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। সেখান থেকে এসএমই ফাউন্ডেশনের জন্য অন্তত ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে।এসএমই ফাউন্ডেশনের গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের ১৭৭টি শিল্প ক্লাস্টারে প্রায় ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তাই ক্লাস্টারভিত্তিক এসএমই উন্নয়নের বিকল্প নেই। এ জন্য এসএমই ফাউন্ডেশনের অনুকূলে বছরে অন্তত ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা যেতে পারে।বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশই কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের প্রতিষ্ঠান।[BANGVIEWS-POST:542]শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ সিএমএসএমই খাতে। এ খাতে ৩ কোটির বেশি মানুষ কর্মরত। সীমিত সম্পদ ও অধিক জনসংখ্যার দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিকে গতিশীল করতে এসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এসএমই ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধা পেয়েছেন প্রায় ২২ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা। এর মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী উদ্যোক্তা।

এসএমই খাতে ৫ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য : শিল্পমন্ত্রী