চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার আয়ের সম্ভাবনা: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাংলাদেশে উৎপাদিত কাঁচা চামড়া থেকে উচ্চমূল্যের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য তৈরি করে রপ্তানি বাড়ানো গেলে বছরে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের বিরোধীদলীয় সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।[BANGVIEWS-POST:1374]মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ চামড়াশিল্পের সম্ভাবনার মাত্র ০.২৬ শতাংশ কাজে লাগাতে পারছে। দীর্ঘদিনের বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যা সমাধান করা গেলে এই খাতের উৎপাদন ও রপ্তানি ১২ থেকে ১৪ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব।তিনি বলেন, অতীতে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবেশগত ও মান-সংক্রান্ত শর্ত তুলনামূলক শিথিল থাকায় দেশের নন-কমপ্লায়েন্ট ট্যানারিগুলোও কাঁচা চামড়া রপ্তানি করতে পারত। তবে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে কমপ্লায়েন্স একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তে পরিণত হওয়ায় এ খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, সাভার চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী দক্ষভাবে পরিচালিত না হলে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হবে। পাশাপাশি হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের কাজও এখনও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি, কারণ প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অবকাঠামোর পূর্ণাঙ্গ কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায়নি।তিনি আরও বলেন, সরকার সিইটিপিকে পুরোপুরি কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ২৫ হাজার ঘনফুট পানি পরিশোধনের সক্ষমতা নিয়ে স্থাপিত এই পরিশোধনাগার বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৪ হাজার ঘনফুট পানি পরিশোধন করতে সক্ষম।[BANGVIEWS-POST:1371]মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের চামড়াশিল্প বর্তমানে রপ্তানি আয়ের দিক থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত হলেও এলডব্লিউজি (লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ) সনদের অভাবে সাভারের অনেক কারখানা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডে পণ্য রপ্তানির সুযোগ পাচ্ছে না।তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বড় ব্র্যান্ডগুলোর কাছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির জন্য এলডব্লিউজি সনদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সনদ অর্জনের ক্ষেত্রে পরিবেশগত মান, রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা এবং পণ্যের উৎস শনাক্তযোগ্যতার বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হয়।
সংসদে দেওয়া তথ্যে মন্ত্রী আরও জানান, দেশের চামড়া রপ্তানি গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে চামড়া রপ্তানি থেকে আয় ছিল ২২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রায় ৪০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। তবে এরপর রপ্তানি আয় কমতে থাকে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা নেমে আসে ১৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দাঁড়ায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে চামড়া রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৯ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার।