জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাদের একজন ছিলেন তিনি।সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকের নানা স্মৃতি তুলে ধরে এসব কথা বলেন তিনি।হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচনে জয়ী হয়ে ঢাকায় ফেরার পর তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাতের সুযোগ হয়।[BANGVIEWS-POST:5039]তিনি জানান, বিজয়ের পর এ বি এম সাত্তার তাকে ফোন করে জানান, বেগম জিয়া তার সঙ্গে দেখা করতে চান। এরপর তিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।স্পিকার বলেন, জিয়াউর রহমানের এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। সে সময় জিয়ার জীবনযাপন ছিল খুবই সাধারণ।হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তখন জিয়াউর রহমানের কাছে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ফাইল আসত না। বিভিন্ন বিষয়ে তাকে কিছুটা দূরে রাখা হতো এবং অনেক কাজ অন্য কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।তিনি বলেন, অবসর সময়ে জিয়াউর রহমান বই, গল্প ও ম্যাগাজিন পড়তেন। সে সময় তার অন্যতম দায়িত্ব ছিল বিভিন্ন ক্যাডেট কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করা।পুরোনো স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্যাডেট কলেজের সভায় যাওয়ার সময় তিনি জিয়াউর রহমানের গাড়ি চালাতেন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী বা মির্জাপুর যাওয়ার পথে তাদের মধ্যে যুদ্ধের সময়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতো।খালেদা জিয়াকে একবার মির্জাপুর নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবের স্মৃতিও তুলে ধরেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিষয়টি জিয়াউর রহমানকে জানালে তিনি কিছুক্ষণ নীরব থেকে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।[BANGVIEWS-POST:5038]পরে তিনি খালেদা জিয়াকে বিষয়টি জানালে তার মন খারাপ হয়েছিল বলেও জানান স্পিকার।হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জীবনে সুযোগ ও যোগ্যতা থাকলে সাফল্য একসময় আসবেই। খালেদা জিয়ার পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনের উদাহরণ দিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।