ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জন্য আলাদা ফাইল ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন

দেশের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও প্রতিবন্ধী নাগরিকদের সেবা, অধিকার ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিতকরণ এবং বাস্তবায়ন কমিটির দ্বিতীয় ফলোআপ সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি প্রতিবন্ধী নাগরিকের জন্য আলাদা ফাইল খোলা হবে। ওই ফাইলে তাদের সুনির্দিষ্ট চাহিদা, স্বাস্থ্য পরিস্থিতি, পুনর্বাসন প্রয়োজন এবং অন্যান্য সহায়তার তথ্য থাকবে। এর ভিত্তিতে সমাজকল্যাণসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও অধিকার নিশ্চিতে কাজ করা হবে।[BANGVIEWS-POST:1085]তিনি জানান, নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব। সভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঢাকার কড়াইল বস্তিতে প্রতিবন্ধী শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘শিশুস্বর্গ’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান উপস্থিত থেকে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে কড়াইল বস্তির প্রায় ১ হাজার প্রতিবন্ধী শিশুকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে।চলতি অর্থবছর থেকেই ‘শিশুস্বর্গ’ কর্মসূচি তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেশের ২০ থেকে ২৫টি উপজেলায় প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রাথমিক শনাক্তকরণ, রেফারাল ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে।স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাঠ পর্যায় থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শনাক্ত করার পর প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফাইল তৈরি করা হবে। এতে তাদের প্রয়োজনীয় সেবা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও অন্যান্য অধিকার নিশ্চিত করা সহজ হবে।সরকারি স্থাপনা ও গণপরিবহনে প্রতিবন্ধীবান্ধব সুবিধা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এখন থেকে সরকারি যেকোনো অবকাঠামো বা ভবন নির্মাণে প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।ড. মুহিত জানান, নতুন নির্মিতব্য ৫০০ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধীদের চলাচলের জন্য র‍্যাম্প, লিফট এবং অন্তত একটি বিশেষ টয়লেটের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কোনো প্রকল্প মূল্যায়নের সময় সেটি প্রতিবন্ধীবান্ধব কি না, তা কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎচালিত বাস চালুর পরিকল্পনাতেও প্রতিবন্ধী নাগরিকদের সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে চালু হতে যাওয়া ইভি বাসে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা যেন সহজে উঠতে ও যাতায়াত করতে পারেন, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের খেলাধুলায় যুক্ত করতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ আলাদা একটি অংশ রাখা হচ্ছে। স্পেশাল অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিকে দেশের জন্য সাফল্য আনা প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের ইতোমধ্যে ১ লাখ টাকা করে অনুদান ও সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন জেলায় প্রতিবন্ধী শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, ফিজিওথেরাপি এবং শিক্ষার মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। সাধারণ স্কুলে যাওয়ার আগে প্রস্তুতিমূলক শিক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক স্কুলের শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য একটি বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:1082]স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের বিষয়গুলোকে সরকার শুধু চাহিদা হিসেবে দেখছে না, বরং তাদের অধিকার হিসেবে দেখছে। প্রতিটি মন্ত্রণালয় সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করবে। লক্ষ্য হলো বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা।সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করা কোনো দয়া বা চ্যারিটির বিষয় নয়। রাষ্ট্র ও নাগরিকের সামাজিক চুক্তি অনুযায়ী এটি তাদের প্রাপ্য অধিকার। সরকার সেই অধিকার নিশ্চিত করতেই কাজ করছে।তিনি জানান, একটি সমন্বিত ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টার গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। একই কমপ্লেক্সের ভেতরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং উৎপাদিত পণ্যের বিপণনের সুযোগ রাখা হবে।সভায় স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জন্য আলাদা ফাইল ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন