ঢাকা    রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, নিহত অন্তত ১৬০

নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ১৫৭ এবং চীনের তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ বা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।বুধবার নেপালের ভোতে কোশি নদী অববাহিকায় আকস্মিকভাবে নেমে আসা পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোতে কয়েকটি জনপদ কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ভেসে যায় বাড়িঘর, সড়ক ও সেতু। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন অবকাঠামোও।[BANGVIEWS-POST:4546]নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের পর ৪০৩ পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি। ভারতসহ যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরা নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন। ২৮ পুলিশ সদস্যও নিখোঁজ বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।সীমান্তের অপর পাশে তিব্বতের গিয়িরং কাউন্টিতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ সেখানে তিনজনের মৃত্যু এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে। ভূমিধসে গিয়িরং বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সড়ক, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। দুর্যোগের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে হিমবাহ থেকে বিশাল বরফ-পাথরের ধস নেমে নদীর প্রবাহ আটকে যাওয়া এবং পরে হঠাৎ বিপুল পানি ও ধ্বংসাবশেষ নিচের দিকে নেমে আসার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। [BANGVIEWS-POST:4545]নেপালের সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও প্রশিক্ষিত দুর্যোগ মোকাবিলা দল মোতায়েন করেছে। তবে কয়েকটি এলাকায় পানির উচ্চতা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে। নেপাল সরকার ভারত ও চীনের কাছেও উদ্ধারকাজে সহায়তা চেয়েছে। বন্যায় দেশটির বিদ্যুৎ খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির হিসাবে জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎসহ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, নিহত অন্তত ১৬০