মাঝারি বর্ষণেই জলাবদ্ধ কক্সবাজার, দুর্ভোগে বাসিন্দা ও পর্যটক
মাঝারি মাত্রার বর্ষণেই আবারও জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে পর্যটননগরী কক্সবাজার পৌর শহর। নালা পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবে শহরের দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার চিত্র ফের সামনে এসেছে। রোববার (২১ জুন) মাগরিবের আজানের সময় শুরু হওয়া বৃষ্টি এবং পরে রাতের টানা বর্ষণে শহরের প্রধান সড়ক, অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো পানিতে তলিয়ে যায়।[BANGVIEWS-POST:373]জলাবদ্ধতায় স্থবির হয়ে পড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা। ড্রেন উপচে পানি সড়কে উঠে আসায় বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন শহরবাসী।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দিনের বিভিন্ন সময়ে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও সন্ধ্যার পর তা তীব্র আকার ধারণ করে। প্রায় এক ঘণ্টা টানা বৃষ্টির পর মধ্যরাতেও আবার বৃষ্টি হয়। এতে কলাতলী, সুগন্ধা, হোটেল-মোটেল জোন, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এলাকা, বার্মিজ মার্কেট, বাজারঘাটা, বিজিবি ক্যাম্প, উপজেলা বাজারসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। অনেক স্থানে সড়ক ও ড্রেনের পার্থক্য বোঝাও কঠিন হয়ে পড়ে।সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন হোটেল-মোটেল জোনে অবস্থানরত পর্যটকেরা। প্রধান সড়কে পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অনেক পর্যটক হোটেলে আটকা পড়েন। কেউ কেউ সমুদ্রসৈকত থেকে ফিরে আসতে গিয়ে জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারাও দৈনন্দিন চলাচলে চরম সমস্যার মুখোমুখি হন।বার্মিজ মার্কেট থেকে বাজারঘাটা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি জমে যায়। পৌরসভার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার সড়ক ও উপসড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ কার্যত ঘরবন্দি হয়ে পড়েন।শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকা, গোলদিঘি, বৌদ্ধ মন্দির সড়ক, বড় বাজার, টেকপাড়া, কালুর দোকান, তারাবনিয়ারছড়া, নুরপাড়া, সমিতিপাড়া, নাজিরারটেক, ফদনারডেইল, কুতুবদিয়া পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কয়েকটি এলাকায় বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটে।স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল-নালা দখল, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবের কারণে কক্সবাজারে জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবসতিপূর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।[BANGVIEWS-POST:372]তাদের দাবি, পর্যটননির্ভর কক্সবাজার শহরের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার, খাল-নালা দখলমুক্তকরণ এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সম্প্রতি নালা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা অনেক ক্ষেত্রেই লোকদেখানো ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ফটোসেশনের পরিবর্তে বাস্তবভিত্তিক কাজ না হলে বর্ষা মৌসুমজুড়ে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক মো. শামীম আল ইমরান বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।