ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

র‍্যাব বিলুপ্ত, সংসদে পাস হলো এসআরবি ও এপিবিএন বিল

জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) দায়িত্ব ও তদন্ত ক্ষমতার পরিধিও বাড়ানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিল দুটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর বিল দুটি সংসদে উত্থাপন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। কমিটির প্রতিবেদনে বিরোধী সদস্যদের আপত্তির বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এসআরবি গঠনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন, র‍্যাবের জনবল, স্থাপনা, লজিস্টিক, ক্ষমতা ও অন্যান্য কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে শুধু নাম পরিবর্তন করলে জনগণ তা গ্রহণ করবে না।তিনি বলেন, র‍্যাবের অতীত কার্যক্রম নিয়ে দেশ-বিদেশে যে সমালোচনা হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বাহিনীর কাঠামো, তদারকি ও জবাবদিহির বিষয়ে আরও স্পষ্ট পরিবর্তন প্রয়োজন।বিরোধী সদস্যরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, র‍্যাবের জনবল, সম্পত্তি, নথিপত্র ও ক্ষমতা সরাসরি এসআরবিতে স্থানান্তর করা হলে নতুন বাহিনী কার্যত আগের বাহিনীর ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।তারা অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থার স্বাধীনতা, নথিপত্র সংরক্ষণ এবং গ্রেপ্তার, তল্লাশি ও তদন্ত ক্ষমতার ক্ষেত্রে আরও বেশি বেসামরিক তদারকির দাবি জানান।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব আপত্তির জবাবে বলেন, র‍্যাব বিলুপ্ত হওয়ার পর নতুন আইন অনুযায়ী এসআরবি গঠন করা হবে এবং দুই বাহিনীর মধ্যে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক থাকবে না।তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ করতে র‍্যাবের অস্ত্র, সরঞ্জাম, অবকাঠামো ও অন্যান্য সম্পদ এসআরবিতে ব্যবহার করা হবে। নতুন করে সব সরঞ্জাম কেনার পরিবর্তে বিদ্যমান সম্পদের আধুনিকায়ন করা হবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, র‍্যাবের নথিপত্র নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী হস্তান্তর করা হবে। এসআরবির অভিযোগ প্রতিকার কমিটি মূলত বিভাগীয় ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয় দেখবে। ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি বলেন, র‍্যাব ২০০৩-০৪ সালে এপিবিএন আইনের অধীনে অস্থায়ী ভিত্তিতে গঠিত হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে এর আইনি কাঠামোতে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় নতুন আইনের মাধ্যমে আলাদা কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।এদিকে এপিবিএন বিল পাসের মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্সের পরিবর্তে নতুন আইনি কাঠামো চালু করা হয়েছে।নতুন আইনে এপিবিএনের দায়িত্বের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার, মানব পাচার, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাইবার অপরাধ, গুম এবং জমি দখলের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।এপিবিএনকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ বিধিমালা অনুসরণ করে এপিবিএনের কর্মকর্তারা তদন্ত পরিচালনা করবেন। তদন্তের প্রয়োজনে আটক কেন্দ্র, ব্যারাক ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র পরিচালনার সুযোগও রাখা হয়েছে।নতুন কাঠামোর আওতায় এপিবিএন সদর দপ্তরে সাইবার সেল ও গবেষণা ইউনিট গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আইনজীবী, চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানীসহ বিভিন্ন পেশার বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত করা যাবে। সরকারের দাবি, নতুন আইনগুলো দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করবে। অন্যদিকে বিরোধী দল ও বিভিন্ন মহল বাহিনীর জবাবদিহি ও মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়ে আরও সতর্কতার দাবি জানিয়েছে।

র‍্যাব বিলুপ্ত, সংসদে পাস হলো এসআরবি ও এপিবিএন বিল