ঢাবি সিনেটে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্বের প্রস্তাব
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে ১৯৭৩ সালের আদেশের দুটি অনুচ্ছেদ নিয়ে প্রস্তাব তুলেছেন সিনেট সদস্য অধ্যাপক সামিনা লুৎফা। তিনি সিনেটে সংসদ সদস্য মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব ও লিঙ্গভিত্তিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।সোমবার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে তিনি এসব প্রস্তাব করেন।[BANGVIEWS-POST:935]সামিনা লুৎফা বলেন, ১৯৭৩ সালের আদেশের ২০-এর ১ ধারা অনুযায়ী সিনেট সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকার পাঁচজন সংসদ সদস্যকে মনোনয়ন দেন। তার প্রস্তাব হলো, এই পাঁচজনের মধ্যে বিরোধী দল থেকে অন্তত দুজন সংসদ সদস্য রাখা উচিত।তিনি আরও বলেন, উপস্থিত পাঁচজন সংসদ সদস্যের সবাই পুরুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ সিনেটে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্ব থাকা জরুরি। এখানে লিঙ্গভিত্তিক অন্তর্ভুক্তিসহ অন্যান্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ও সমানভাবে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা কাঠামো নিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালের আদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের তালিকায় জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও উপদেষ্টা কমিটির উল্লেখ নেই। অথচ গত প্রশাসনের সময় এসব কমিটি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। এগুলো বৈধ কর্তৃপক্ষ না হলে কীভাবে টিকে আছে, তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি।উপাচার্যের বিশেষ ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সামিনা লুৎফা। তিনি বলেন, উপাচার্যের বিশেষ ক্ষমতার একটি নির্দিষ্ট পরিধি থাকা দরকার। সবকিছু সম্পূর্ণ খোলা রেখে দিলে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।গবেষণা বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি গবেষণায় বরাদ্দ না রাখার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। জাতীয় উন্নয়ন ও শিক্ষার অগ্রগতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা বরাদ্দ থাকা জরুরি। এ বরাদ্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই থাকা উচিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছে নয়।শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সামিনা লুৎফা বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাব দেখা যায়, যা এক ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি করে। এই প্রভাব নিয়ন্ত্রণে আনতে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে আচার্য মনোনীত প্রতিনিধির প্রয়োজন নেই বলে মত দেন তিনি।[BANGVIEWS-POST:907]তার প্রস্তাব, নিয়োগ বোর্ডে বিষয় বিশেষজ্ঞ কারা হবেন এবং কীভাবে তাদের নির্ধারণ করা হবে, তা বিভাগ ও অনুষদ পর্যায় থেকে আসা উচিত। একই সঙ্গে বিষয় বিশেষজ্ঞ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ও পরিধি থাকা দরকার, যাতে যে কেউ বিশেষজ্ঞ পরিচয়ে নিয়োগ বোর্ডে যুক্ত হতে না পারেন।
সামিনা লুৎফা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সিনেট তার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। তাই এই কর্তৃপক্ষে যারা আসবেন, তাদের প্রতিনিধিত্ব আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া প্রয়োজন।