ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে সংস্থার ভেতরে বিরোধ আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে। হাঙ্গেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান ও ফিফার ভাইস প্রেসিডেন্ট শান্দোর চ্যানি ইনফান্তিনোর প্রতি নিজের সমর্থন প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছেন।ইনফান্তিনোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে চ্যানি তার নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং পেশাগত মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ফিফা সভাপতির প্রতি আগে যে আস্থা ছিল, তা এখন আর নেই।চ্যানি বিশেষভাবে ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন লামুরকে বরখাস্তের ঘটনাকে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এই সিদ্ধান্তই তার অবস্থান পরিবর্তনের চূড়ান্ত কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।[BANGVIEWS-POST:4123]গত সোমবার ফিফা থেকে লামুরকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে বিশ্বকাপের স্বত্ব ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ইনফান্তিনোর সমালোচনা করেছিলেন তিনি।চ্যানির অবস্থানের পর ফিফার শীর্ষ পর্যায়ে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অসন্তোষ আরও স্পষ্ট হয়েছে। ফিফার আটজন ভাইস প্রেসিডেন্টের মধ্যে এখন পাঁচজনই সভাপতির নেতৃত্ব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।ইনফান্তিনোর বিরোধিতা করা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন উয়েফা সভাপতি আলেকসান্ডার সেফেরিন, কনকাকাফ প্রধান ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি, এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা এবং ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ার ডেবি হিউইট।অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন কনমেবলের সভাপতি আলেহান্দ্রো দোমিনগেজ, আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি প্যাট্রিস মোটসেপে এবং ওশেনিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি ল্যামবার্ট মালটক এখনো ইনফান্তিনোর পাশে রয়েছেন।[BANGVIEWS-POST:4122]ফিফা কাউন্সিলের সদস্য শান্দোর চ্যানি তার চিঠিতে অভিযোগ করেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাকে বারবার উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ফিফাকে সফলভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে ইনফান্তিনোর সক্ষমতার ওপর তার আগের বিশ্বাস ধীরে ধীরে কমে গেছে।চিঠিতে বিশ্বকাপ আয়োজন ও ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা পরিচালনার ক্ষেত্রে ইনফান্তিনোর নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক অংশীদারদের কাছে প্রতিযোগিতার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে ফিফার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ভবিষ্যতে কতটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, সেটিই এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।