ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

যুদ্ধের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী বদলে নতুন সরকার গঠনের পথে ইউক্রেন

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কোর পদত্যাগের পর দেশটিতে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা নিয়ে দেশটির পার্লামেন্টে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।ইউক্রেনের পার্লামেন্টের স্পিকার রুসলান স্টেফানচুক জানিয়েছেন, সভিরিদেঙ্কো আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। প্রচলিত সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসারে তার পদত্যাগ এবং নতুন সরকার গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।এর আগে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মাত্র এক বছর দায়িত্ব পালনের পর সভিরিদেঙ্কোকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে সরকার পুনর্গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের কাজে নতুন চিন্তা ও গতি আনতেই এ পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:1769]জেলেনস্কি নতুন প্রধানমন্ত্রীর নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেননি। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি নাফতোগাজের প্রধান সেরহি কোরেৎসকি, জ্বালানিমন্ত্রী দেনিস শ্মিহাল এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভের নাম আলোচনায় রয়েছে।সরকার পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর শীর্ষ পর্যায়েও পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তার মতে, নতুন নেতৃত্ব ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার প্রচেষ্টা এবং আসন্ন শীতে রাশিয়ার সম্ভাব্য জ্বালানি অবকাঠামো হামলা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা সেরহি কোরেৎসকি বর্তমানে নাফতোগাজের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি দায়িত্ব পেলে যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকেও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি ইউক্রেনের সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন সক্ষমতা এবং সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।তবে বিরোধী দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা ও বিশ্লেষক মনে করছেন, ফেদোরভকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দিলে চলমান সামরিক সংস্কার ব্যাহত হতে পারে। যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রতিরক্ষা নেতৃত্বে বারবার পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন তারা।ইউক্রেনের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী পদে একজনকে মনোনয়ন দেন। এরপর পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য নির্বাচন করলেও তাদের নিয়োগও আইনপ্রণেতাদের ভোটে অনুমোদিত হতে হয়।ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি থাকায় বর্তমানে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। এ কারণে প্রশাসনের নেতৃত্ব পরিবর্তনে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনই জেলেনস্কির হাতে থাকা অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক উপায়।[BANGVIEWS-POST:1765]সমালোচকেরা বলছেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ঘন ঘন পরিবর্তন যুদ্ধকালীন প্রশাসনে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। তাদের অভিযোগ, জেলেনস্কির সরকার নতুন নেতৃত্ব আনার পরিবর্তে সীমিতসংখ্যক ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন পদে পুনর্বিন্যাস করছে।তবে সরকারের সমর্থকদের মতে, রাশিয়ার বাড়তে থাকা হামলা, জ্বালানি নিরাপত্তা, সামরিক সক্ষমতা এবং দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে নতুন গতি আনতে এ পুনর্গঠন প্রয়োজন।সূত্র: রয়টার্স

যুদ্ধের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী বদলে নতুন সরকার গঠনের পথে ইউক্রেন