ঢাকা    সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ ১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা ইউএই প্রবাসীদের

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা দেশে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে আমিরাতে বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের ভিসা জটিলতা নিরসন এবং ভিসা বাতিলের কারণে দেশে আটকে পড়া প্রবাসীদের কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনআরবি সিআইপি ও প্রবাসী ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা এসব প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরেন।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রবাসী উদ্যোক্তারা ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ইসলামিক ব্যাংকিং, ড্রাই ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং, ই-রেন্টাল সেবা, সোলার প্যানেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পর্যটন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।[BANGVIEWS-POST:3889]তাদের মতে, সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করা, বিনিয়োগের সুরক্ষা, প্রয়োজনীয় জমি বা লিজ সুবিধা, অবকাঠামোগত সহায়তা এবং কার্যকর ওয়ান-স্টপ সেবা নিশ্চিত করা গেলে প্রস্তাবিত বিনিয়োগগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।প্রতিনিধিদল জানিয়েছে, প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে তারা ইতোমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গেও তাদের বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসাসংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। প্রবাসী প্রতিনিধিদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণভাবে মালিক বা স্পন্সর পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত থাকায় অনেক বাংলাদেশি কর্মী কর্মসংস্থান নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন। দুই দেশের সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান চান তারা।এ ছাড়া ভিসা বাতিল হওয়ার কারণে দেশে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের তালিকা তৈরি করে তাদের আমিরাতে ফেরার সুযোগ তৈরিতে সরকারি উদ্যোগের দাবি জানানো হয়। প্রতিনিধিদের ভাষ্য, আটকে পড়া অনেক প্রবাসীর চাকরি, ব্যবসা ও পরিবার আমিরাতে রয়েছে।[BANGVIEWS-POST:3888]প্রবাসীদের সেবা সহজ করতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটে দক্ষ ও প্রবাসীবান্ধব কর্মকর্তা নিয়োগ, ২৪ ঘণ্টার জরুরি হেল্পলাইন, উন্নত ডিজিটাল অভিযোগ ব্যবস্থা এবং প্রবাসী সহায়তা সেল গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে মোট ১৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ভিসা জটিলতা নিরসন, বিদেশগামী কর্মীদের ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ, প্রবাসী কার্ড, স্থানীয় আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ, মৃত প্রবাসীদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনা, রেমিট্যান্স প্রণোদনা বাড়ানো, সাশ্রয়ী বিমান ভাড়া, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং সহজ ঋণ ও বীমা সুবিধার দাবি রয়েছে।প্রতিনিধিদলের সদস্য মোহাম্মদ রুবেল সিআইপি বলেন, প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানোর পাশাপাশি দেশের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। প্রস্তাবিত এক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে নতুন শিল্প, কর্মসংস্থান, রপ্তানি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা ইউএই প্রবাসীদের