টুখেলের স্কোয়াডে প্রথমবার দুই বেলিংহাম ভাই
ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ আক্রমণভাগ সাজাতে নতুন মুখের ওপর আস্থা রাখছেন কোচ টমাস টুখেল। ক্রোয়েশিয়া ও স্পেনের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচ সামনে রেখে ঘোষিত দলে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে জায়গা পেয়েছেন জুড ও জুব বেলিংহাম। অন্যদিকে, চেলসির তারকা কোল পালমারকে এবারও বিবেচনায় রাখেননি কোচ। প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন ফুলহামের ১৯ বছর বয়সী প্রতিভা জশ কিংও।জুব বেলিংহামের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আশাবাদী টুখেল। ২১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে চলতি মৌসুমে ভালো পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন। জার্মান ক্লাবটিতে এটি তাঁর দ্বিতীয় মৌসুম। এর আগে বড় ভাই জুডও রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার আগে ডর্টমুন্ডে তিন মৌসুম খেলেছেন।ইংল্যান্ডের হয়ে দুই ভাইকে একসঙ্গে খেলতে দেখার প্রত্যাশা করছেন কোচ। এর আগে গ্যারি নেভিল ও ফিল নেভিলের মতো দুই ভাই জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। জুবও বড় ভাইয়ের মতো দলে নিজের জায়গা প্রতিষ্ঠা করবেন বলে আশা টুখেলের।দল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে জুবকে নিয়ে টুখেল বলেন, ‘লি কার্সলির (ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলের কোচ) কাছে প্রথম আমি জুব সম্পর্কে শুনেছিলাম। সে জুবকে নিয়ে ভীষণ আশাবাদী। সে অবশ্য এটার যোগ্য। আশা করছি, মুগ্ধতা ছড়িয়ে প্রথম একাদশে সে জায়গা করে নেবে। ডর্টমুন্ডে এখন সে দারুণ খেলছে, যে কারণে তাকে ডাকা হয়েছে।’এদিকে নতুন আরেক মুখ জশ কিংকেও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে চান টুখেল। ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেললেও একাধিক পজিশনে ভূমিকা রাখতে পারেন। কোচ জানিয়েছেন, তাঁকে দুই উইংয়েও পরখ করে দেখতে চান।জশকে নিয়ে টুখেলের ভাষ্য, ‘আমাদের হাতে যথেষ্ট ১০ নম্বর রয়েছে। আমাদের আগের ক্যাম্পে যারা ছিল, তাদের ওপরই আস্থা রাখতে চাই। কারণ, যে আড়াই সপ্তাহ আমরা একত্রে ছিলাম, তখন আমরা খুশি ছিলাম। এর মধ্যে আমাদের দলে নতুন যুক্ত হয়েছে জশ কিং। আমি তাঁকে উভয় উইংয়ে দেখতে চাই। সে চারটি পজিশনে খেলতে পারে। তবে সে স্কোয়াডে বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে থাকবে।’অর্থাৎ, এবারই মূল একাদশে জায়গা পাওয়ার চেয়ে দলের সঙ্গে থেকে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন জশ। তাঁকে চারটি পজিশনে খেলানোর সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন কোচ।অন্যদিকে, কোল পালমারকে দলে না রাখার সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গত সেপ্টেম্বরেও চোটের কারণে ইংল্যান্ড স্কোয়াডে জায়গা পাননি চেলসি তারকা। সে সময় টুখেল বলেছিলেন, জাতীয় দলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার একাধিক সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি পালমার। গত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের দলে জায়গা না পাওয়াও তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়েছে।এবারের দল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনেও পালমারকে নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন টুখেল। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, ইংল্যান্ড জাতীয় দলে খেলার জন্য সবাই মরিয়া, কোলও (পালমার) এর ব্যতিক্রম নয়। তবে আমরা এমন একজনকে নিয়ে কথা বলছি যে কিনা এখন ক্যাম্পে নেই। যদি ক্যাম্পে থাকত, তাহলে বিবেচনার বিষয় ছিল। আর আমি গত সংবাদ সম্মেলনেই বলেছিলাম, জাতীয় দলে জায়গা পাকা করার অনেক সুযোগ পেয়েও সে কাজে লাগাতে পারেনি।’পালমারের অনুপস্থিতিতে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডের বিকল্প হিসেবে জুব বেলিংহাম ও জশ কিংয়ের দিকে নজর দিচ্ছেন টুখেল। চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় আর্সেনালের ফরোয়ার্ড বুকায়ো সাকাকেও এই স্কোয়াডে রাখা হয়নি।