ঢাকা    শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের দিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন তিনি। তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাও দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় এক ঘণ্টার টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এসব কথা বলেন ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা। নির্বাসনে যাওয়ার পর কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে এটিই তার প্রথম পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকার বলে জানিয়েছে রয়টার্স। [BANGVIEWS-POST:1566]শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ও আওয়ামী লীগের অন্য নেতারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। তবে দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ, কোন পথে ফিরবেন কিংবা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।দেশে ফেরার পর গ্রেপ্তার বা প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি ফিরে গেলে তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে। এমনকি হত্যা করতেও পারে। তবুও আমাকে ফিরতে হবে।’তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ব্যাপক দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন। মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হলেও নিজের দেশেই তা মোকাবিলা করতে চান বলে জানান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয় এবং তিনি ভারতে চলে যান। পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অভিযান চালানোর অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। শেখ হাসিনা অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। [BANGVIEWS-POST:1561]রয়টার্স জানিয়েছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাও দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। তবে অন্য নেতাদের অবস্থান বা তাদের ফেরার পরিকল্পনা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সংবাদ সংস্থাটি। শেখ হাসিনা বলেন, তাকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। তবে তিনি প্রত্যর্পণের অপেক্ষা না করে নিজেই দেশে ফিরবেন।এর আগে বাংলাদেশ সরকার বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করতে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক অনুরোধ জানিয়েছিল। ভারত তখন অনুরোধটি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ নিয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি।দেশে ফেরার বিষয়ে ঢাকা বা নয়াদিল্লির সঙ্গে কোনো আলোচনা করেননি বলেও দাবি করেন শেখ হাসিনা। তার ভাষ্য, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের বিষয় কোনো গোপন আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে না।নিজের বিরুদ্ধে চলমান বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করেন এবং বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতের প্রকৃত অবস্থা মানুষের সামনে তুলে ধরতে চান।আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, কোনো দল খারাপ কাজ করলে তার বিচার জনগণ করবে। তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও দলটিকে কেন নিষিদ্ধ করা হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন।শেখ হাসিনা জানান, আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তিনি অনলাইনে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন। দলের নেতাকর্মীদের দেশে ফিরে একসঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।  শেখ হাসিনার ঘোষণার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ফলে ডিসেম্বরে তার দেশে ফেরার পরিকল্পনা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার