যুক্তরাষ্ট্রে আইস অভিযানে ফের প্রাণহানি
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অভিবাসন অভিযানের সময় এক চালককে গুলি করে হত্যার এক সপ্তাহ না পেরোতেই মেইন অঙ্গরাজ্যে আইস কর্মকর্তার গুলিতে আরও এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।সোমবার সকাল ৭টার দিকে উপকূলীয় বিডেফোর্ড শহরে এ ঘটনা ঘটে। শহরটি মেইনের বৃহত্তম নগরী পোর্টল্যান্ড থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, বহিষ্কারের চূড়ান্ত আদেশ থাকা এক ব্যক্তির সর্বশেষ পরিচিত ঠিকানায় নজরদারি করছিলেন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের কর্মকর্তারা। এ সময় ওই বাসা থেকে একটি গাড়ি বের হলে সেটিকে থামানোর চেষ্টা করা হয়।[BANGVIEWS-POST:1769]বিভাগটির দাবি, গাড়ির চালক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেন। এরপর আইসের এক কর্মকর্তা গুলি চালান। তবে চালক কীভাবে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছিলেন, সে বিষয়ে প্রাথমিক বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।অভিবাসী অধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তি ২৬ বছর বয়সী কলম্বিয়ান নাগরিক। তার যুক্তরাষ্ট্রে কাজের বৈধ অনুমতি ও সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর ছিল বলে দাবি করেছেন তারা। তবে তার পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।মেইনের সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তি আইসের অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলেন না। প্রথমে তাকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আওতাভুক্ত ব্যক্তি বলা হলেও পরে সংশোধিত তথ্যে জানানো হয়, কর্মকর্তারা অন্য একজনকে খুঁজছিলেন।কিং বলেন, তদন্তে নিহত ব্যক্তির অভিবাসন অবস্থার চেয়ে তিনি কর্মকর্তাদের জন্য সত্যিই প্রাণঘাতী হুমকি তৈরি করেছিলেন কি না, সেটিই গুরুত্ব পাওয়া উচিত।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ৭১ বছর বয়সী ড্যানিয়েল বুশার জানান, তিনি প্রথমে পটকা ফাটার মতো কয়েকটি শব্দ শুনতে পান। জানালা দিয়ে তাকিয়ে একটি সাদা এসইউভিকে ছোট একটি সাদা গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াতে দেখেন।[BANGVIEWS-POST:1772]পরে বাইরে গিয়ে তিনি দেখেন, একজন কর্মকর্তা গাড়ির দরজা খুলে রক্তাক্ত চালককে টেনে বের করছেন। আহত ব্যক্তিকে তিনি বলতে শুনেছেন, “আমি তো গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেছিলাম।”রয়টার্সের যাচাই করা একটি ভিডিওতে সাদা গাড়িটিকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলতে এবং ভেস্ট পরা দুই ব্যক্তিকে সেটি থামানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তবে ভিডিওটি গুলি চালানোর আগে নাকি পরে ধারণ করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত করা যায়নি।ঘটনাস্থলের ছবিতে গাড়ির চালকের পাশের সামনের কাচে চারটি গুলির ছিদ্রের মতো চিহ্ন দেখা যায়। পরে গাড়িটি সরিয়ে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।ঘটনাটি তদন্তে বিডেফোর্ড পুলিশ ও এফবিআই যুক্ত হয়েছে। গুলি চালানোর পরিস্থিতি এবং কর্মকর্তাদের বলপ্রয়োগ আইনসম্মত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।গুলির ঘটনার পর বিডেফোর্ডে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের কার্যালয়ের দিকে মিছিল করেন এবং আইসের অভিযান বন্ধের দাবিতে স্লোগান দেন। সন্ধ্যায় প্রায় ২০০ মানুষ মোমবাতি প্রজ্বালন করে নিহত ব্যক্তি ও অভিবাসীদের প্রতি সংহতি জানান।এর ছয় দিন আগে টেক্সাসের হিউস্টনে আইস কর্মকর্তার গুলিতে ৫২ বছর বয়সী লরেঞ্জো সালগাদো আরাউজো নিহত হন। আইসের দাবি, তিনি নিজের গাড়ি দিয়ে কর্মকর্তাদের আঘাতের চেষ্টা করেছিলেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা সংস্থাটির বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন।[BANGVIEWS-POST:1770]২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযানে আইসের গুলিতে নিহত মানুষের সংখ্যা অন্তত সাতজনে পৌঁছেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশজুড়ে অভিবাসনবিরোধী অভিযান ও গ্রেপ্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।মেইনে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আইসের অভিযানও জোরদার হয়েছে। জুনের শুরু থেকে অঙ্গরাজ্যটিতে সংস্থাটির গ্রেপ্তারের সংখ্যা চার গুণের বেশি বেড়েছে বলে আইসের অভ্যন্তরীণ তথ্যের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।সূত্র: রয়টার্স