টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে পশ্চিম আফ্রিকার দুই দেশ ঘানা ও আইভরি কোস্টে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্গত এলাকা থেকে শত শত মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো অনেকে নিখোঁজ থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।ঘানার জাতীয় ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যালেক্স কিং নার্টে জানিয়েছেন, সোমবার শুরু হওয়া ভারি বৃষ্টির পর মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজধানী আক্রায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:977]তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, কয়েকজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।টানা বর্ষণে আক্রার বহু বাড়িঘর, সড়ক ও নিচু এলাকা পানিতে ডুবে যায়। উদ্ধারকর্মীরা রাতভর অভিযান চালিয়ে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।গ্রেটার আক্রা অঞ্চলের ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার রশিদ কওয়ামে নিসাউ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত ৪০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়িঘর থেকে পানি সরানো এবং দুর্গতদের সহায়তায় কাজ করছে উদ্ধারকারী দল।ঘানার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, সোমবার সকাল থেকেই বাসিন্দারা ঘরে পানি ঢুকে পড়ার খবর জানিয়ে জরুরি সহায়তা চাইতে শুরু করেন। সংস্থার উপপরিচালক মারিয়াম ডংয়েলা মিল্লাহ বলেন, পুরো এলাকা পানিতে ডুবে গেছে এবং পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।আইভরি কোস্টেও শনিবার থেকে শুরু হওয়া ভারি বৃষ্টিতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের সংখ্যা জানায়নি। তবে দমকল বাহিনী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, সেখানে প্রায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।ঘানার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ মুনতাকা মোবারক বলেছেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি আরও ভালো হতে পারত।[BANGVIEWS-POST:973]এদিকে প্রেসিডেন্ট জন মাহামা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী আক্রায় প্রায় ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এটি গত বছরের সর্বোচ্চ একদিনের বৃষ্টিপাতের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি।তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে জলপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঘানার আবহাওয়া অধিদপ্তর চলতি সপ্তাহে আরও ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা জানিয়েছে। রাজধানীর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।সূত্র: আলজাজিরা