সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয়ের ১ কোটি ২৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের সন্ধান
সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার ও তার প্রয়াত স্ত্রী বিপ্লবী রানীর নামে মোট ১ কোটি ২৭ লাখ ৭১ হাজার ৬০৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব সম্পদের বিষয়ে তাদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।দুদক সূত্রে জানা গেছে, প্রলয় কুমার জোয়ারদারের নামে ৯২ লাখ ১৪ হাজার ৮৭২ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তার স্ত্রী বিপ্লবী রানীর নামে পাওয়া গেছে আরও ৩৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭৩৪ টাকার সম্পদের তথ্য।দুদকের অনুসন্ধানে প্রলয় কুমার জোয়ারদারের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়, চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে সম্পদ গড়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ অর্থ বিদেশে পাচারের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় ছিল।সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসেনের পরিচালিত অনুসন্ধানে প্রলয় কুমার জোয়ারদারের নামে ওই সম্পদের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায় বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।প্রলয় কুমার জোয়ারদার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজি এবং যশোরের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।এদিকে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ ও বিদেশে সম্পদ থাকার অভিযোগ নিয়ে এর আগেও দুদকে অনুসন্ধানের আবেদন করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে তার চার দেশে ছয়টি বাড়ি থাকার অভিযোগ অনুসন্ধানের দাবিতে দুদকে আবেদন করার খবর প্রকাশিত হয়।দুদক জানিয়েছে, প্রলয় কুমার জোয়ারদারের প্রয়াত স্ত্রী বিপ্লবী রানীর নামেও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর মারা যান। মৃত্যুর কারণে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি দায়ের বিষয়টি প্রযোজ্য নয় বলে দুদক সূত্রে জানানো হয়েছে।এখন সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিশ জারির পর পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে দুর্নীতি দমন কমিশন।