নাহিদ ইসলামের হলফনামা নিয়ে বিভ্রান্তি, ব্যাখ্যা দিল এনসিপি
- আপডেট: শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
- / 7
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী হলফনামা ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে, তার একটি অংশকে ‘বিভ্রান্তিকর অপতথ্য’ বলে দাবি করেছে দলটি। বিশেষ করে হলফনামায় উল্লেখ থাকা নাহিদ ইসলামের মোট সম্পত্তির অঙ্ক—৩২ লাখ টাকার বেশি—নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
দলের যুগ্ম সদস্যসচিব তামীম আহমেদ এক বার্তায় বিষয়টি পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নাহিদ ইসলামের বেতন-ভাতা বাবদ মোট আয় হয়েছে ১১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯ টাকা। সাত মাসের দায়িত্বকাল ধরে গড়ে মাসিক প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা হিসেবে এই আয় দাঁড়ায়। উপদেষ্টা পদ ছাড়ার পর তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে যুক্ত হন, যেখানে মাসিক সম্মানী ১ লাখ টাকা।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, উপদেষ্টা পদ ও পরামর্শক কাজ—দুই উৎস মিলিয়ে গত অর্থবছরে নাহিদ ইসলামের মোট আয় প্রায় ১৬ লাখ টাকা। এই আয়ের বিপরীতে ২০২৪-২৫ আয়বর্ষে তিনি ১ লাখ ১৩ হাজার ২৭৪ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন, যা তার আয়কর রিটার্নে উল্লেখ আছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই হলফনামায় বার্ষিক আয়ের অঙ্ক ১৬ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এনসিপির ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, হলফনামায় নাহিদ ইসলামের ‘বর্তমান সম্পত্তি’ হিসেবে যে ৩২ লাখ ১৬ হাজার ১২২ টাকার হিসাব উল্লেখ আছে, তা শুধু চাকরি থেকে পাওয়া আয়ের সরল যোগফল নয়। বরং এর মধ্যে রয়েছে উপদেষ্টা ও পরামর্শক হিসেবে আয়, হাতে থাকা নগদ অর্থ, আগের সঞ্চয়, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও বিয়েতে আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া আর্থিক উপহার, এবং স্বর্ণালংকারের বর্তমান বাজারমূল্য—সব মিলিয়ে মোট সমষ্টি।
একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো আরেকটি দাবিও নাকচ করেছে দলটি। তামীম আহমেদ বলেন, আয়কর রিটার্ন বা নির্বাচনী হলফনামার কোথাও নাহিদ ইসলামের পেশা ‘শিক্ষকতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। বরং হলফনামার ৪ নম্বর কলামে তার বর্তমান পেশা পরামর্শক এবং পূর্ববর্তী পেশা হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পদ স্পষ্টভাবে লেখা আছে—এ কারণে শিক্ষকতা সংক্রান্ত প্রচারকে ‘স্পষ্ট অপতথ্য’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্যাংক হিসাব নিয়েও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। দলটির বক্তব্য অনুযায়ী, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পদত্যাগের সময় নাহিদ ইসলাম নিজেই এক পাবলিক পোস্টে জানিয়েছিলেন—তার সোনালী ব্যাংকের একটি মাত্র অ্যাকাউন্টে তখন জমা ছিল ১০ হাজার ৬৯৮ টাকা। হলফনামায় ওই একই অ্যাকাউন্টে বর্তমানে জমার পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৩ টাকা ৫৭ পয়সা। এছাড়া নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য ২৮ ডিসেম্বর সিটি ব্যাংকে খোলা একটি অ্যাকাউন্ট ছাড়া তার নামে অন্য কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই বলেও দাবি করা হয়।

















