১ জানুয়ারি এত মানুষের জন্মদিন কেন?
- আপডেট: শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
- / 11
পহেলা জানুয়ারি এলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখে পড়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছার বন্যা। অনেকেই এই দিনটিকেই নিজের জন্মদিন হিসেবে উদ্যাপন করেন। ফলে মনে হওয়াটা স্বাভাবিক—বাংলাদেশে কি সত্যিই এত মানুষের জন্ম বছরের প্রথম দিনেই? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো বাস্তবতা? এই প্রশ্ন ঘিরেই কৌতূহল বহুদিনের।
বাস্তবে দেখা যায়, জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লেখ করা জন্মতারিখে জানুয়ারির ১ তারিখের আধিক্য চোখে পড়ে। শিশুদের নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরাও এই প্রবণতার কথা স্বীকার করছেন।
শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. ইশতিয়াক মান্নানের মতে, বিষয়টি এমন নয় যে, প্রকৃত জন্মহার জানুয়ারির ১ তারিখে হঠাৎ বেড়ে যায়। বরং এর মূল কারণ আমাদের দেশের জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়ার দুর্বলতা। তিনি বলেন, এখনো বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক শিশুর জন্ম হয় বাড়িতে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়। সেখানে জন্মের সঠিক তারিখ সংরক্ষণ বা নথিভুক্ত করার বিষয়ে পরিবারগুলো খুব একটা সচেতন নয়।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, অনেক ক্ষেত্রে জন্মের সময় নিবন্ধন করা না হলে পরে স্কুলে ভর্তি বা পরীক্ষার সময় একটি জন্মতারিখ প্রয়োজন হয়। তখন অনেক সময় শিক্ষক বা সংশ্লিষ্টরা সহজ ও মনে রাখার সুবিধার জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ বসিয়ে দেন। সেই ‘সহজ’ তারিখ হিসেবে জানুয়ারির ১ তারিখই বেশি ব্যবহৃত হয়। ফলে কাগজে-কলমে জন্মদিন এক হলেও বাস্তবে জন্মদিন ভিন্ন হয়—এভাবেই অনেকের জীবনে তৈরি হয় দুইটি জন্মদিন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা কেবল বাংলাদেশেই নয়; ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানসহ আরও কয়েকটি দেশেও একই চিত্র দেখা যায়।
তবে এটাও সত্য যে, সব জন্মতারিখই যে কল্পিত—তা নয়। ডা. ইশতিয়াক মান্নান জানান, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশুর জন্ম প্রকৃত অর্থেই ১ জানুয়ারিতে হয়। কিন্তু সঠিক পরিসংখ্যানের অভাবে প্রকৃত ও কৃত্রিম জন্মতারিখের এই পার্থক্য স্পষ্টভাবে আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পহেলা জানুয়ারিতে জন্মদিন পালন করা মানুষের সংখ্যা বেশি হলেও এর বড় একটি অংশ প্রশাসনিক ও সামাজিক বাস্তবতার ফল—জন্মের প্রকৃত সময় নয়।














