ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আগামী ৫ দিন থাকবে কুয়াশার দাপট

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট: শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 12

আগামী পাঁচ দিন দেশের আবহাওয়ায় শীত ও কুয়াশার প্রভাব অব্যাহত থাকার আশঙ্কা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কিছু অঞ্চলে দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে চলমান মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আরও কিছু এলাকায় বিস্তৃত হতে পারে এবং আগামী কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের একটি বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। পাশাপাশি মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে, যার একটি অংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির প্রভাবেই দেশে শীত ও কুয়াশার দাপট বাড়ছে।

প্রথম দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সকাল ৯টা থেকে সারাদেশে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বেশিরভাগ এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এর ফলে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপথ এবং সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, পঞ্চগড়, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই শৈত্যপ্রবাহ কিছু কিছু এলাকায় প্রশমিত হলেও অন্য অঞ্চলে এর প্রভাব বিস্তৃত হতে পারে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

দ্বিতীয় দিন শনিবার (৩ জানুয়ারি) সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এদিনও কুয়াশার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

তৃতীয় দিন রোববার (৪ জানুয়ারি) থেকে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকলেও নদী অববাহিকা এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যান্য অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা যেতে পারে। এ সময় দিনের ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

চতুর্থ দিন সোমবার (৫ জানুয়ারি) এবং পঞ্চম দিন মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। এ সময়ও আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকার কিছু এলাকায় ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। পঞ্চম দিনে রাতের তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমার ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, যদিও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এদিকে বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সামগ্রিকভাবে আগামী দিনগুলোতে সারাদেশে শীতের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে এবং তাপমাত্রা ধীরে ধীরে নিম্নমুখী হতে পারে।

শেয়ার করুন

আগামী ৫ দিন থাকবে কুয়াশার দাপট

আপডেট: শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

আগামী পাঁচ দিন দেশের আবহাওয়ায় শীত ও কুয়াশার প্রভাব অব্যাহত থাকার আশঙ্কা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কিছু অঞ্চলে দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে চলমান মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আরও কিছু এলাকায় বিস্তৃত হতে পারে এবং আগামী কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের একটি বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। পাশাপাশি মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে, যার একটি অংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির প্রভাবেই দেশে শীত ও কুয়াশার দাপট বাড়ছে।

প্রথম দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সকাল ৯টা থেকে সারাদেশে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বেশিরভাগ এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এর ফলে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপথ এবং সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, পঞ্চগড়, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই শৈত্যপ্রবাহ কিছু কিছু এলাকায় প্রশমিত হলেও অন্য অঞ্চলে এর প্রভাব বিস্তৃত হতে পারে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

দ্বিতীয় দিন শনিবার (৩ জানুয়ারি) সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এদিনও কুয়াশার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

তৃতীয় দিন রোববার (৪ জানুয়ারি) থেকে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকলেও নদী অববাহিকা এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যান্য অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা যেতে পারে। এ সময় দিনের ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

চতুর্থ দিন সোমবার (৫ জানুয়ারি) এবং পঞ্চম দিন মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। এ সময়ও আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকার কিছু এলাকায় ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। পঞ্চম দিনে রাতের তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমার ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, যদিও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এদিকে বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সামগ্রিকভাবে আগামী দিনগুলোতে সারাদেশে শীতের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে এবং তাপমাত্রা ধীরে ধীরে নিম্নমুখী হতে পারে।