শীতে কাঁপছে বরিশাল : ছয় দিনে চিকিৎসা নিয়েছে ১২ শ শিশু
- আপডেট: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 20
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বরিশালে শিশু রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুটি শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন শিশু ভর্তি হচ্ছে।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্বরত একাধিক নার্স জানান, নবজাতক থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী শিশুরা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের বড় একটি অংশ গ্রামাঞ্চল থেকে আসছে। এতে করে ৪১ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে প্রায় ৩০০ শিশু ভর্তি রয়েছে। তীব্র শয্যা সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে একটি শয্যায় দুইজন, কোথাও কোথাও তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। নার্সরা জানান, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ও নজরদারি প্রয়োজন হচ্ছে। বেশিরভাগ রোগী গ্রামের বিভিন্ন ফার্মেসি ও গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়ে উপকার না পেয়ে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আসছে। তারা বলেন, শিশুরা যদি শুরুতেই হাসপাতালে আসত, তাহলে এতদিন ভর্তি রেখে চিকিৎসা দিতে হতো না। এ কারণে অভিভাবকদের ঠান্ডাজনিত রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ ডিসেম্বর থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিশু ওয়ার্ডে মোট ১ হাজার ২২৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে দুটি ওয়ার্ড মিলিয়ে ভর্তি রয়েছে প্রায় ৩০০ শিশু।
শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন সানজিদার মা জানান, তারা ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলা থেকে এসেছেন। তার চার বছর বয়সী মেয়ের জ্বর কোনোভাবেই কমছিল না। গ্রাম্য চিকিৎসক ও ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিলেও কাজ না করায় বাধ্য হয়ে শিশুটিকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিন দিনের চিকিৎসায় তার মেয়ে অনেকটাই সুস্থ হয়েছে এবং শিগগিরই হাসপাতাল ছাড়তে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান শিশু ইউনিটে ভর্তি আরেক রোগীর অভিভাবক আবু মুসা। তিনি বলেন, বাড়ি থেকে বের হলেই টাকার প্রয়োজন হয়, তাই প্রথমে গ্রাম্য চিকিৎসক ও ফার্মেসির ওপর নির্ভর করতে হয়। সেখানকার ওষুধে কাজ না করলে উপজেলা হাসপাতালে যান। সেখান থেকে অনেক সময় শিশুর অবস্থা গুরুতর বলে ভয় দেখানো হয়, এরপর শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসতে বাধ্য হন। এখানে এসে চিকিৎসা ও কিছু ওষুধ পেয়েছেন, যা হাসপাতালে নেই তা বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। তবে আগের তুলনায় ভালো চিকিৎসা পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, শীতের কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন শিশু ভর্তি হচ্ছে। রোগীর তুলনায় শয্যা কম থাকায় একই শয্যায় একাধিক শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তবে চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে বরিশাল আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মিলন হাওলাদার জানান, শুক্রবার বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত দুই দিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে স্থির রয়েছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, শনিবার মধ্যরাত থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এ সময়ের মধ্যে বৃষ্টিপাত বা শৈত্যপ্রবাহের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।






















