বরিশালে একদিনে ৩ লাশ উদ্ধার
- আপডেট: শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 27
বরিশালে একদিনে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পৃথক তিনটি ঘটনায় একজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, অপর দুজনের মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুরের মধ্যে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক, বরিশাল নগরী ও উজিরপুর উপজেলা থেকে পৃথকভাবে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে একজন পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার চরপাড়া ইউনিয়নের জসিম হাওলাদারের ছেলে শাকিল হাওলাদার (১৮)। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাটের পুল এলাকায় সড়কের পাশে একটি যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শাকিল হাওলাদারের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের বাবা জসিম হাওলাদার জানান, গত দুই দিন ধরে শাকিল নিখোঁজ ছিল এবং এ ঘটনায় দুমকি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। তার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে শাকিলকে হত্যা করে অটোরিকশাটি ছিনতাই করা হয়েছে। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মুখমণ্ডল থ্যাঁতলানো এবং হাত-পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পরিবারকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।
অপর ঘটনায়, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরিশাল নগরীর ফলপট্টি রোডের আবাসিক হোটেল পার্ক থেকে নাইটগার্ড আব্দুল হাকিম হাওলাদারের (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। তিনি বাকেরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ কলকাঠি গ্রামের বাসিন্দা।
কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. সেলিম হাওলাদার জানান, রাতে ডিউটিরত অবস্থায় আব্দুল হাকিম অসুস্থবোধ করলে হোটেলের একটি কক্ষে বিশ্রাম নিতে যান। সকালে কোনো সাড়া না পেয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ দরজা ভেঙে কক্ষের ভেতর দরজার পাশে উপুড় হয়ে থাকা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন না পাওয়ায় প্রাথমিকভাবে স্বাভাবিক মৃত্যুর ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত করা হবে।
নিহতের মেয়ে নাহিদা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, তার বাবা অসুস্থ হলেও হোটেল কর্তৃপক্ষ তাকে হাসপাতালে নেওয়া বা চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করেনি। এমনকি পরিবারকেও বিষয়টি জানানো হয়নি। তিনি এটিকে চরম অবহেলা বলে দাবি করেন।
তৃতীয় ঘটনায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উজিরপুর উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দেউরী বাড়ি সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীর শাখা কচা নদী থেকে আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে উজিরপুর মডেল থানা পুলিশ। থানার ওসি রকিবুল ইসলাম জানান, স্থানীয়রা নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দিলে তা উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। উদ্ধার হওয়া যুবকের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তিনটি ঘটনায় পৃথকভাবে তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।






















