ঢাকা ১০:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আগৈলঝাড়ায় হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান প্রকৃতির রজতজয়ন্তী উদযাপন

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 30

বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলায় হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান প্রকৃতি পরিচালিত পাঁচটি প্রোডাকশন ইউনিটের বর্ষপূর্তি ও প্রতিষ্ঠানটির রজতজয়ন্তী উদ্‌যাপন করা হয়েছে। প্রকৃতির পাঁচটি ইউনিট— বিবর্তন হ্যান্ডমেইড পেপার প্রজেক্ট, কেয়াপাম হ্যান্ডিক্রাফটস, তরুলতা ক্রাফটস, জোবারপাড় এন্টারপ্রাইজ এবং বাগধা এন্টারপ্রাইজ— এই উপলক্ষে একযোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের কালুরপাড় এলাকায় অবস্থিত হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান প্রকৃতি’র নিজস্ব মাঠে এ রজতজয়ন্তী ও বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রকৃতির নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার দাস।

অনুষ্ঠানে স্বপন কুমার দাস বলেন, লতাপাতা ও জলাশয়ের কচুরিপানা দিয়ে তৈরি হাতে বানানো পণ্য দিয়েই প্রকৃতি বিশ্ববাজারে পরিচিতি অর্জন করেছে। বাড়ির আশপাশের লতাপাতা, ঘাস ও কচুরিপানা দিয়ে তৈরি এসব হস্তশিল্প পণ্য বর্তমানে বিশ্বের ৪২টি দেশের বাজারে স্থান করে নিয়েছে। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে প্রায় ছয় হাজার নারী কারিগরের শ্রম ও দক্ষতা। বিদেশি ক্রেতারা এসব পণ্য দেখে মেশিনে তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করলেও বাস্তবে বাংলাদেশের নারীরাই এগুলো হাতে তৈরি করেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে প্রকৃতি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। মেনোনাইট সেন্ট্রাল কমিটি (এমসিসি) কর্তৃক শুরু করা আটটি কর্মসংস্থান প্রকল্পের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তি গড়ে ওঠে। শুরুর দিকে এমসিসির পরিচালকরা শাসনব্যবস্থা, আর্থিক কাঠামো ও আন্তর্জাতিক ন্যায্য বাণিজ্যের মানদণ্ড গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে হস্তনির্মিত কাগজ, পাট, সিল্ক ও প্রাকৃতিক তন্তু উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হয় এবং নারী কারিগরদের ন্যায্য মজুরি ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়। এর ফলে প্রকৃতি ধীরে ধীরে একটি স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

প্রকৃতির বোর্ড অব ডিরেক্টরস সদস্য সুফিয়া আক্তার রহমান, আবজালুল নেছা চৌধুরী ও হাসিনা আক্তার তাদের বক্তব্যে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব ব্র্যান্ডিং, পরিচিতি ও প্যাকেজিং শক্তিশালী করে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। রিসাইকেল করা শাড়ি, বর্জ, পাট ও কচুরিপানা দিয়ে তৈরি পরিবেশবান্ধব পণ্য প্রকৃতির স্বাক্ষর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ২০১৫ সালে কচুরিপানা দিয়ে তৈরি একটি অলঙ্কারের জন্য (ডব্লিউএফটিও) মোহাম্মদ ইসলাম ডিজাইন পুরস্কার অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি। এতে রপ্তানি বৃদ্ধি পায়, কারিগরদের আয় বাড়ে এবং পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ ও জীবনমান উন্নত করতে সক্ষম হয়।

তারা আরও বলেন, ব্লক প্রিন্টিং, বাঁশের কারুশিল্প ও ক্রোশে খেলনা তৈরির প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পণ্যে বৈচিত্র আনা হয়েছে। টেরাকোটা, ফ্যাশন ডিজাইন ও আধুনিক পরিবেশবান্ধব কারুশিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে প্রকৃতি। ভবিষ্যতে আরও গভীর নারী ক্ষমতায়ন, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। একই সঙ্গে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রকৃতিকে ন্যায্য বাণিজ্যের একটি আলোকবর্তিকা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য তুলে ধরেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিখন বণিক বলেন, প্রকৃতি বরিশাল জেলার জন্য গর্বের একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, নিজের কর্মস্থল আগৈলঝাড়ায় এমন একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও পরিবেশবান্ধব প্রতিষ্ঠান থাকায় তিনি গর্বিত। রজতজয়ন্তী উপলক্ষে লতাপাতা, তালপাতা, কচুরিপানা ও ফুলগাছ দিয়ে তৈরি মঞ্চ তাকে মুগ্ধ করেছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তপন বিশ্বাস, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোসাম্মৎ দৌলাতুন নেছা নাজমা, আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাসুদ খান, পল্লীবিদ্যুৎ বরিশাল-২ সমিতির জিএম বিপুল কৃষ্ণ, আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি ডা. মো. মাহাবুবুল ইসলাম, সাংবাদিক এস এম ওমর আলী সানি, প্রকৃতি ডেপুটি ডিরেক্টর সজল কৃষ্ণ দত্তসহ সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রকৃতির ম্যানেজার পাপড়ি মণ্ডল।

শেয়ার করুন

© ২০২৬ বাংলা ভিউজ কর্তৃক সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Technical Direction: Ubaidullah

আগৈলঝাড়ায় হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান প্রকৃতির রজতজয়ন্তী উদযাপন

আপডেট: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলায় হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান প্রকৃতি পরিচালিত পাঁচটি প্রোডাকশন ইউনিটের বর্ষপূর্তি ও প্রতিষ্ঠানটির রজতজয়ন্তী উদ্‌যাপন করা হয়েছে। প্রকৃতির পাঁচটি ইউনিট— বিবর্তন হ্যান্ডমেইড পেপার প্রজেক্ট, কেয়াপাম হ্যান্ডিক্রাফটস, তরুলতা ক্রাফটস, জোবারপাড় এন্টারপ্রাইজ এবং বাগধা এন্টারপ্রাইজ— এই উপলক্ষে একযোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের কালুরপাড় এলাকায় অবস্থিত হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান প্রকৃতি’র নিজস্ব মাঠে এ রজতজয়ন্তী ও বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রকৃতির নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার দাস।

অনুষ্ঠানে স্বপন কুমার দাস বলেন, লতাপাতা ও জলাশয়ের কচুরিপানা দিয়ে তৈরি হাতে বানানো পণ্য দিয়েই প্রকৃতি বিশ্ববাজারে পরিচিতি অর্জন করেছে। বাড়ির আশপাশের লতাপাতা, ঘাস ও কচুরিপানা দিয়ে তৈরি এসব হস্তশিল্প পণ্য বর্তমানে বিশ্বের ৪২টি দেশের বাজারে স্থান করে নিয়েছে। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে প্রায় ছয় হাজার নারী কারিগরের শ্রম ও দক্ষতা। বিদেশি ক্রেতারা এসব পণ্য দেখে মেশিনে তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করলেও বাস্তবে বাংলাদেশের নারীরাই এগুলো হাতে তৈরি করেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে প্রকৃতি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। মেনোনাইট সেন্ট্রাল কমিটি (এমসিসি) কর্তৃক শুরু করা আটটি কর্মসংস্থান প্রকল্পের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তি গড়ে ওঠে। শুরুর দিকে এমসিসির পরিচালকরা শাসনব্যবস্থা, আর্থিক কাঠামো ও আন্তর্জাতিক ন্যায্য বাণিজ্যের মানদণ্ড গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে হস্তনির্মিত কাগজ, পাট, সিল্ক ও প্রাকৃতিক তন্তু উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হয় এবং নারী কারিগরদের ন্যায্য মজুরি ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়। এর ফলে প্রকৃতি ধীরে ধীরে একটি স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

প্রকৃতির বোর্ড অব ডিরেক্টরস সদস্য সুফিয়া আক্তার রহমান, আবজালুল নেছা চৌধুরী ও হাসিনা আক্তার তাদের বক্তব্যে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব ব্র্যান্ডিং, পরিচিতি ও প্যাকেজিং শক্তিশালী করে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। রিসাইকেল করা শাড়ি, বর্জ, পাট ও কচুরিপানা দিয়ে তৈরি পরিবেশবান্ধব পণ্য প্রকৃতির স্বাক্ষর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ২০১৫ সালে কচুরিপানা দিয়ে তৈরি একটি অলঙ্কারের জন্য (ডব্লিউএফটিও) মোহাম্মদ ইসলাম ডিজাইন পুরস্কার অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি। এতে রপ্তানি বৃদ্ধি পায়, কারিগরদের আয় বাড়ে এবং পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ ও জীবনমান উন্নত করতে সক্ষম হয়।

তারা আরও বলেন, ব্লক প্রিন্টিং, বাঁশের কারুশিল্প ও ক্রোশে খেলনা তৈরির প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পণ্যে বৈচিত্র আনা হয়েছে। টেরাকোটা, ফ্যাশন ডিজাইন ও আধুনিক পরিবেশবান্ধব কারুশিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে প্রকৃতি। ভবিষ্যতে আরও গভীর নারী ক্ষমতায়ন, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। একই সঙ্গে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রকৃতিকে ন্যায্য বাণিজ্যের একটি আলোকবর্তিকা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য তুলে ধরেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিখন বণিক বলেন, প্রকৃতি বরিশাল জেলার জন্য গর্বের একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, নিজের কর্মস্থল আগৈলঝাড়ায় এমন একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও পরিবেশবান্ধব প্রতিষ্ঠান থাকায় তিনি গর্বিত। রজতজয়ন্তী উপলক্ষে লতাপাতা, তালপাতা, কচুরিপানা ও ফুলগাছ দিয়ে তৈরি মঞ্চ তাকে মুগ্ধ করেছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তপন বিশ্বাস, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোসাম্মৎ দৌলাতুন নেছা নাজমা, আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাসুদ খান, পল্লীবিদ্যুৎ বরিশাল-২ সমিতির জিএম বিপুল কৃষ্ণ, আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি ডা. মো. মাহাবুবুল ইসলাম, সাংবাদিক এস এম ওমর আলী সানি, প্রকৃতি ডেপুটি ডিরেক্টর সজল কৃষ্ণ দত্তসহ সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রকৃতির ম্যানেজার পাপড়ি মণ্ডল।