ঢাকা ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুলাই সনদ পাস, শাসনব্যবস্থায় আসতে পারে যুগান্তকারী পরিবর্তন

বাংলা ভিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 22

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিপুল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ায় দেশের শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ খুলে গেছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী জাতীয় সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট এবং সংবিধানসহ একাধিক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সংস্কার আনা হবে।

নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের পর প্রথম ১৮০ দিন সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর তারা স্বাভাবিক আইনপ্রণেতা হিসেবে কাজ করবেন। জুলাই সনদে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠন এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনের পাশাপাশি উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন বাধ্যতামূলক থাকবে। ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবে।

সংবিধানের মূলনীতিতে পরিবর্তন এনে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতির বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। সব সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও মর্যাদা নিশ্চিতের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মৌলিক অধিকারের তালিকায় নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয় যুক্ত হচ্ছে।

নারীদের সংরক্ষিত আসন ধাপে ধাপে ১০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাব রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গোপন ব্যালট চালু এবং অভিশংসনের ক্ষেত্রে দুই কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনের বিধান যুক্ত হচ্ছে। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন—এমন সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

জরুরি অবস্থা জারির ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং বিরোধীদলীয় নেতার উপস্থিতির বিধান রাখা হয়েছে। বিচার বিভাগে নিয়োগ ও কাঠামোগত সংস্কারে স্বচ্ছতা আনতে পৃথক কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।

এবারের গণভোটে মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ। ভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। ‘হ্যাঁ’ ভোট পেয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখের বেশি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ। বিপুল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন

জুলাই সনদ পাস, শাসনব্যবস্থায় আসতে পারে যুগান্তকারী পরিবর্তন

আপডেট: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিপুল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ায় দেশের শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ খুলে গেছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী জাতীয় সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট এবং সংবিধানসহ একাধিক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সংস্কার আনা হবে।

নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের পর প্রথম ১৮০ দিন সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর তারা স্বাভাবিক আইনপ্রণেতা হিসেবে কাজ করবেন। জুলাই সনদে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠন এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনের পাশাপাশি উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন বাধ্যতামূলক থাকবে। ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবে।

সংবিধানের মূলনীতিতে পরিবর্তন এনে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতির বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। সব সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও মর্যাদা নিশ্চিতের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মৌলিক অধিকারের তালিকায় নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয় যুক্ত হচ্ছে।

নারীদের সংরক্ষিত আসন ধাপে ধাপে ১০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাব রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গোপন ব্যালট চালু এবং অভিশংসনের ক্ষেত্রে দুই কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনের বিধান যুক্ত হচ্ছে। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন—এমন সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

জরুরি অবস্থা জারির ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং বিরোধীদলীয় নেতার উপস্থিতির বিধান রাখা হয়েছে। বিচার বিভাগে নিয়োগ ও কাঠামোগত সংস্কারে স্বচ্ছতা আনতে পৃথক কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।

এবারের গণভোটে মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ। ভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। ‘হ্যাঁ’ ভোট পেয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখের বেশি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ। বিপুল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে।